অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন? আবেদনকারীদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা দিল প্রশাসন!

জুলাই মাস প্রায় শেষের পথে। আর অগাস্ট মাস যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের বহু মহিলা আবেদনকারীর মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana)-র ভাতা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। ইতিমধ্যে জুন মাসের পর জুলাই মাসেও রাজ্যের বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে গেলেও, সমস্ত ‘যোগ্য’ আবেদনকারী এখনও সেই আর্থিক সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ উঠছে। অনেকেরই আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস বর্তমানে ‘Under Enquiry’ বা ‘Payment Pending’ দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে বড় বার্তা দিল শাসকদল ও প্রশাসন।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে উদ্বেগের কারণ ও দলীয় বৈঠক
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা হওয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দূর করতে সম্প্রতি সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অস্থায়ী বাসভবনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার সহ শীর্ষ নেতৃত্ব এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে মহিলাদের মধ্যে যে ভীতি বা সংশয় দূর করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় দলের কর্মী ও নেতাদেরই।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এলাকার মহিলাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে বহু ক্ষেত্রে ফর্মের কাজ বর্তমানে ‘আন্ডার প্রসেস’ বা পক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ এবং কিছু ক্ষেত্রে ছোটখাটো পদ্ধতিগত জটিলতা থাকার কারণে টাকা ঢুকতে সামান্য সময় লাগছে। এই সমস্ত প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক সমস্যা মিটে গেলেই সংশ্লিষ্ট উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্রুত ভাতার টাকা ঢুকতে শুরু করবে। পুরো প্রক্রিয়ায় জেলা সভাপতিদেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভেরিফিকেশন ও ফর্ম ফিলাপের সময়সীমা
সরকারের পক্ষ থেকে সুনিশ্চিত করা হয়েছে যে, কোনো প্রকৃত ও যোগ্য মহিলা যেন জনহিতকর এই প্রকল্প থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন। অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন ফর্ম ফিলাপ ও জমা নেওয়ার কাজ যেমন সমান্তরালে চলছে, তেমনই বঞ্চিত যোগ্য আবেদনকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজও পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই ফর্ম ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া আগামী ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। যত দ্রুত সম্ভব এই পুরো যাচাইকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যোগ্য উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত করা হবে এবং ধাপে ধাপে সকলের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যাঁরা অযোগ্য কিংবা ভুয়া উপভোক্তা হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাতিল করা হবে। সুতরাং, যাঁদের স্ট্যাটাস নিয়ে বর্তমানে ধোঁয়াশা রয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত না হয়ে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।