বিশ্বকাপে ইউরোপের দাপট আসলে কাদের? জানেন কি, প্রতি ১০ জনে ৪ জনই ভিনদেশি শিকড়ের!

ফুটবল শুধু এখন আর ১১ জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়, এটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ইউরোপীয় দলগুলোর স্কোয়াড বিশ্লেষণ করলে একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে আসে—ইউরোপের হয়ে মাঠে নামা প্রতি ১০ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে প্রায় ৪ জনেরই রয়েছে অভিবাসী বা ভিনদেশি পারিবারিক শিকড়। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে এই হার ছিল ২৬ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশে।

তালিকার শীর্ষে ফ্রান্স, দাপট অন্যান্য দেশেরও
একটি স্বাধীন বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপের দেশগুলোর জাতীয় দলে অভিবাসী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে গত দশকের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্স। তাদের স্কোয়াডের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ খেলোয়াড়েরই রয়েছে বিদেশি শিকড়। এর মধ্যে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে (ক্যামেরুন ও আলজেরিয়ান বংশোদ্ভূত) এবং এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা (অ্যাঙ্গোলায় জন্ম, বাবা-মা কঙ্গোর)।

অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের স্কোয়াডের পরিসংখ্যান:

সুইজারল্যান্ড: ৬০-৬৫%

বেলজিয়াম: ৫৫-৬০% (রোমেলু লুকাকু, জেরেমি ডোকু প্রমুখ)

নেদারল্যান্ডস: ৫০-৫৫%

ইংল্যান্ড: ৪৫-৫০%

জার্মানি: ৪০-৪৫%

স্পেন: ২০-২৫%

শিকড়ের টানে ফুটবলের মাঠে বিশ্বায়ন
ইউরোপের ফুটবল এখন কেবল সেই দেশের স্থানীয়দের খেলা নয়, এটি অনেক পরিবারের জীবন সংগ্রামের গল্প। স্পেনের তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল (মরক্কান বাবা ও বিষুবীয় গিনিয়ান মায়ের সন্তান) বা নিকো উইলিয়ামস (ঘানার অভিবাসী বাবা-মা)—প্রত্যেকেই নিজ দেশের হয়ে খেললেও বহন করছেন ভিন্ন দেশের ঐতিহ্য। একই কথা প্রযোজ্য ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা (নাইজেরিয়ান বংশোদ্ভূত) বা জার্মানির জামাল মুসিয়ালার (নাইজেরিয়ান-ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত) ক্ষেত্রেও।

কেন বাড়ছে এই হার?
২০২০ সালে ফিফা খেলোয়াড়দের জাতীয় দল পরিবর্তনের নিয়মে (Eligibility Rules) যে স্বচ্ছতা এনেছে, তার ফলে অনেক খেলোয়াড় এখন তাঁদের শিকড় বা বসবাসের ভিত্তিতে নতুন দেশকে বেছে নিতে পারছেন। তবে মনে রাখা জরুরি, ৩৮ শতাংশ এই হিসাবটিই প্রমাণ করে না যে এই খেলোয়াড়রা সবাই অভিবাসী। এঁদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট দেশেই জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন। তবে তাঁদের পারিবারিক ইতিহাস এখন ইউরোপীয় ফুটবলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফুটবল একাডেমির তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শহরের ক্লাব—অভিবাসন যেভাবে ইউরোপের সামগ্রিক কাঠামো বদলে দিয়েছে, বিশ্বকাপের মাঠ এখন তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *