পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পথে ইরান-আমেরিকা! টানা নবম রাতে ভয়াবহ বিমান হামলা, অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত এখন এক চরম মোড়ে। যুদ্ধবিরতির সব সম্ভাবনা নাকচ করে উভয় পক্ষই এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পথে এগিয়ে চলেছে। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই সংঘাতের নবম রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের মূল কারণ ও পরিস্থিতি:
মার্কিন সেনা হত্যা: গত সপ্তাহে জর্ডানে মার্কিন সেনঘাঁটিতে ইরানি হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরাকে একটি ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময়ও এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিশোধ নিতেই ওয়াশিংটন এখন তেহরানের ওপর সর্বাত্মক সামরিক চাপ তৈরি করেছে।
লক্ষ্যবস্তু: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সাইট এবং মিসাইল লঞ্চ সাইটগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরানও পাল্টা আক্রমণ হিসেবে জর্ডান ও ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
কৌশলগত জলপথ: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। ইরান এই জলপথকে নিজেদের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে, যার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম ৯০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
অস্থিরতা ও ভয়াবহ পরিণতি:
সংঘাতের এই দ্বিতীয় সপ্তাহে কেবল সামরিক ঘাঁটি নয়, উভয় পক্ষই এখন একে অপরের বেসামরিক ও অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরানের বিভিন্ন এলাকায় ব্রিজ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত, জর্ডান এবং বাহরাইন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট:
ইরান গত মাসের মধ্যবর্তী চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই উত্তজনা নতুন করে দানা বেঁধেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আঁচ কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবে উভয় পক্ষই পিছিয়ে আসতে নারাজ, তাতে এই সংঘাত যে কোনো মুহূর্তে আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে, যা পুরো এশীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।