হাসপাতালের বিছানায় সিলিং ফ্যান ভেঙে মৃত্যু! রোগীর পরিবার তুলল চরম গাফিলতির অভিযোগ

হাসপাতালের বিছানা মানেই সুস্থ হওয়ার নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সেই বিছানাতেই যে ওত পেতে রয়েছে মৃত্যু, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি ৪২ বছর বয়সী মহম্মদ আকবর। দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর (GTB) হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়ে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত ১৮ জুলাই হাইপারটেনশন ও নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে দিল্লির এই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মহম্মদ আকবর। শনিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ এমার্জেন্সি ওয়ার্ড নম্বর ২৭-এ হঠাৎই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সিলিং ফ্যানটি তাঁর ওপর হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, ফ্যানটি পড়ার সময় সেখানে উপস্থিত এক নার্সও আহত হন। ঘটনার ঘণ্টাখানেক পরেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল বনাম পরিবার: দ্বন্দ্ব চরমে
এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও মৃত রোগীর পরিবারের বয়ানে বিস্তর ফারাক রয়েছে:

পরিবারের দাবি: আকবরের মৃত্যুর কারণ সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়ার ফলে হওয়া আঘাতই। ফ্যান পড়ার পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। সরকারি হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

কর্তৃপক্ষের দাবি: উল্টো সুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। তাঁদের দাবি, রোগী আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যু হয়েছে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার জেরেই। সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়ার সময় তিনি আহত হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই আঘাতের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়নি বলে দাবি হাসপাতালের। এমনকি ডেথ সার্টিফিকেটেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে অসুস্থতাকেই উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন:
রাজধানীর অন্যতম বড় সরকারি হাসপাতালের এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রোগীরা যেখানে জীবন বাঁচাতে হাসপাতালে আসেন, সেখানে হাসপাতালের পরিকাঠামোর কারণে প্রাণ যাওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।

নিহত আকবরের পরিবারের সদস্যরা এখন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণের গাফিলতি এবং সিলিং ফ্যান ভেঙে পড়ার সাথে মৃত্যুর সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *