“আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছিল!”-অভিষেকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মদনের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আঁচ ক্রমশ বাড়ছে। রবিবার এক ফেসবুক লাইভে এসে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র সরাসরি আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।
মদন মিত্র অভিযোগ করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে খুনের চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগেই আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল, গুলি চালানো হয়েছে। আমি এসবকে পাত্তা দিই না।” এখানেই থামেননি তিনি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘খুনি’ এবং ‘ক্রিমিনাল’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, তিনি টাকা দিয়ে খুন করান এবং তাঁর অপরাধপ্রবণতা রয়েছে। অভিষেককে হুঁশিয়ারি দিয়ে মদন বলেন, “ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতি আর কামারহাটির রাজনীতি এক নয়, আমাকে চমকে-ধমকে লাভ নেই।”
শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এক হাত নিয়েছেন মদন মিত্র। তিনি লাইভে মন্তব্য করেন, “এই যে দিদিমণি, যুবরাজ—সবাইকে আমি চিনি। একমাত্র মদন মিত্র ছাড়া সবাই দালাল।” দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, অভিষেকের যথেচ্ছাচার ও জুলুমের কারণেই নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের মিছিল নিয়ে হুঁশিয়ারি: ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও এক অদ্ভুত পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “২১ জুলাই সকালে দুজনের মিছিল বেরোবে—একটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, আরেকটা শুভেন্দু অধিকারীর। আমি কারোটারই নই।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওটা মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা, সেখানে গন্ডগোল হলে গুলি-গোলা চলবে।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন মদন মিত্র। নিজেকে ও তাঁর সঙ্গীদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে তাঁরা বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। দলের এই ভাঙন এবং একের পর এক শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মদন মিত্রের এই আক্রমণ যে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তা বলাই বাহুল্য।