বিল নিয়ে রেস্তোরাঁর কারসাজি? সার্ভিস চার্জ নিলেই বড় বিপদ, নড়েচড়ে বসল সরকার!

রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে বিলের সঙ্গে গছিয়ে দেওয়া হচ্ছে ‘সার্ভিস চার্জ’? সাবধান! এবার থেকে এই অভ্যাস বজায় রাখলে রেস্তোরাঁ মালিকদের গুনতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। সেই সঙ্গে নষ্ট হতে পারে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামও। কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী সাফ জানিয়ে দিলেন, এই বেআইনি অভ্যাস বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি, মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলোতে রেস্তোরাঁ বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে সার্ভিস চার্জ যোগ করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীও বেঙ্গালুরুর একটি রেস্তোরাঁয় এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। বিলের সঙ্গে সার্ভিস চার্জ দেখে তিনি প্রতিবাদ জানালে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তা তুলে নিতে বাধ্য হয় এবং ক্ষমা চায়। এই ঘটনার পর মন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন।
৪১টি রেস্তোরাঁ নজরে
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ভোক্তা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (CCPA) দেশজুড়ে ৪১টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ‘চায়োস (সানশাইন টিহাউস)’-এর ওপর ৫০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং গ্রাহককে সার্ভিস চার্জের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাটনার ক্যাফে ব্লু বটল, চায়না গেট, বারবিকিউ নেশন, ল’অপেরা ফ্রেঞ্চ বেকারি এবং দ্য লাক্সারি নাইট ক্লাবের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কী বলছে আইন?
ভোক্তা সুরক্ষা আইন, ২০১৯-এর ২(৪৭) ধারা অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ আদায় করা একটি ‘অন্যায় ব্যবসায়িক অনুশীলন’ (Unfair Trade Practice)। দিল্লি হাইকোর্টও সিসিপিএ-র এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে এবং হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোকে বাধ্যতামূলক সার্ভিস চার্জ আদায় থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ বার্তা
মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, টিপস দেওয়া সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক, কিন্তু বিলের সঙ্গে চাপিয়ে দেওয়া সার্ভিস চার্জ আইনত দণ্ডনীয়। কোনো রেস্তোরাঁ গ্রাহকের ইচ্ছের বিরুদ্ধে এই চার্জ যোগ করলে ভোক্তাদের অবিলম্বে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।
কীভাবে অভিযোগ জানাবেন?
ভোক্তারা সরাসরি জাতীয় ভোক্তা হেল্পলাইন (১৯১৫) নম্বরে কল করে বা মন্ত্রণালয়ের ইমেল ঠিকানায় বিস্তারিত প্রমাণসহ অভিযোগ জানাতে পারবেন।
আপনার কষ্টার্জিত অর্থ যেন অন্যায্যভাবে রেস্তোরাঁর পকেটে না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।