স্মার্টফোন কি হাতের নাগালের বাইরে? চিপের আকাল ও লাগামহীন দামে ভারতে রেকর্ড পতন বিক্রিতে!

বিশ্বজুড়ে মেমরি চিপের তীব্র সংকট এবং স্মার্টফোনের আকাশছোঁয়া দাম—এই জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত ভারতের স্মার্টফোন বাজার। সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে ভারতে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কমেছে। গত ছয় বছরের মধ্যে এটিই স্মার্টফোন বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পতনের ঘটনা।

কেন এই বিপুল পতন?
‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের স্মার্টফোন বাজার মূলত মিড-রেঞ্জ ফোনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মেমরি চিপ ও র‍্যাম (RAM)-এর সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছে এই মিড-রেঞ্জ ফোনগুলোই। ফলে চিপের দাম বাড়ায় স্মার্টফোনের দামও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের কেনার ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

AI-এর নেশায় স্মার্টফোন হারাচ্ছে চিপ:
টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ডাটা সেন্টারের রমরমা। স্মার্টফোনে যে উচ্চমানের মেমরি চিপ ও র‍্যাম ব্যবহার করা হয়, সেই একই চিপ বর্তমানে AI ডাটা সেন্টার তৈরির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যামসাং (Samsung), এসকে হাইনিক্স (SK Hynix) এবং মাইক্রন (Micron)-এর মতো চিপ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো এখন স্মার্টফোন কোম্পানির বদলে AI ডাটা সেন্টার সংস্থাগুলোর কাছে চিপ বিক্রি করাকে বেশি লাভজনক মনে করছে। এর ফলে স্মার্টফোন শিল্পের জন্য চিপের সরবরাহ কমে গিয়েছে।

সচেতন ছিলেন প্রযুক্তি জায়ান্টরা:
পরিস্থিতির যে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন অ্যাপল-এর সিইও টিম কুক। এছাড়াও ওপ্পো (Oppo), ভিভো (Vivo)-র মতো একাধিক স্মার্টফোন সংস্থা ফোনের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল। চিনে ফোন বিক্রির পরিমাণ মাত্র ২ শতাংশ কমলেও, ভারতে ১০ শতাংশের এই পতন চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে প্রযুক্তি দুনিয়ায়।

ভবিষ্যৎ কী?
টেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন না যে পরিস্থিতি এখনই স্বাভাবিক হবে। AI প্রযুক্তির জয়যাত্রা অব্যাহত থাকলে চিপের ঘাটতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ভারতের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজারের জন্য এই পরিস্থিতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ফোন কোম্পানিগুলো বিকল্প কোনো পথ খুঁজে পায় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *