“ধোঁয়া থেকে জলীয় বাষ্প!”-হাইড্রোজেন ট্রেন উদ্বোধনের ভিডিয়োয় ‘পথের পাঁচালী’ কেন আজও প্রাসঙ্গিক?

ভারতের রেল ইতিহাসে শুক্রবার এক অবিস্মরণীয় দিন। হরিয়ানার ঝিন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করল ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন—’NaMo Green Rail’। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেন কেবল গতির নিরিখেই নয়, পরিবেশবান্ধব হওয়ার কারণেও এক নতুন যুগের সূচনা করল। তবে এই আধুনিক প্রযুক্তির উদ্বোধনে যেভাবে অতীতের নস্ট্যালজিয়া মিশে গেল, তা দেশবাসীকে এক অন্যরকম আবেগে ভাসাল।

ভিডিয়োয় ‘পথের পাঁচালী’র চমক রেল মন্ত্রকের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা উদ্বোধনী ভিডিয়োর শুরুতেই দেখা যায় সেই আইকনিক সাদা-কালো দৃশ্য। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবি ‘পথের পাঁচালী’র সেই দৃশ্যে ধোঁয়া ওঠা রেলগাড়ির দিকে বিস্ময়ভরা চোখে তাকিয়ে রয়েছে ছোট্ট অপু। দিদি দুর্গার হাত ধরে তার সেই প্রথম ট্রেন দেখার শিহরণ আজও বাঙালির মনে গেঁথে রয়েছে। আধুনিক হাইড্রোজেন ট্রেনের কথা বলতে গিয়ে কেন সেই পুরনো দৃশ্য ফিরে এল? এ নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

কী বলছেন বিভূতিভূষণের নাতি তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায়? এই বিষয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাতি তৃণাঙ্কুর বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এই সময় অনলাইন’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হয়তো নির্মাতা কেবল ট্রেন ছুটে আসার একটি প্রতীকী দৃশ্যের খোঁজ করছিলেন, তবে কাকতালীয়ভাবে এর গভীর অর্থ বেরিয়ে এসেছে। তাঁর কথায়:

  • বিস্ময়বোধ: অপু বা বিভূতিভূষণের লেখনীতে যন্ত্রসভ্যতা নিয়ে যে বিস্ময় ফুটে উঠত, তা হাইড্রোজেন ট্রেনের এই আধুনিক বিবর্তনের সঙ্গে মিলে যায়।

  • প্রকৃতি প্রেম: বিভূতিভূষণ চিরকালই প্রকৃতি ও পরিবেশের ঘোরতর সমর্থক ছিলেন। ‘আরণ্যক’-এর লেখক যদি আজ বেঁচে থাকতেন, তবে এই ‘গ্রিন রেল’ প্রযুক্তিকে তিনি নিঃসন্দেহে স্বাগত জানাতেন। যে লেখক পরিবেশ রক্ষার কথা বলে গিয়েছেন, তাঁর সৃষ্টির দৃশ্যপট থেকেই এই নতুন যুগের সূচনা যেন এক অদ্ভুত মিল।

ধোঁয়া বনাম জলীয় বাষ্প অপুর দেখা সেই ধোঁয়া ওঠা ট্রেন ছিল কয়লা চালিত, যা ছিল যন্ত্রসভ্যতার শুরুর দিন। আজকের এই হাইড্রোজেন ট্রেন ধোঁয়া বা দূষণ নয়, বরং বের করে কেবল জলীয় বাষ্প। পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে এটাই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

ভারতের রেল মানচিত্রে এই হাইড্রোজেন ট্রেনের অন্তর্ভুক্তি কেবল এক প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অপুর সেই অকৃত্রিম বিস্ময় আর আজকের আধুনিক ভারতের পরিবেশ সচেতনতার এক চমৎকার মেলবন্ধন। যন্ত্রসভ্যতা এগিয়েছে, ধোঁয়া সরেছে, কিন্তু মানুষের মনে সেই প্রথম ট্রেন দেখার রোমাঞ্চটা যেন আজও অমলিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *