ভেসে যাবে উত্তরবঙ্গ? টানা বৃষ্টির সতর্কতা জারি হাওয়া অফিসের, দক্ষিণবঙ্গে কী খবর?

দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও, ফের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার গ্রাসে উত্তরবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, শনি ও রবিবার (১৯ ও ২০ জুলাই) উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় অত্যন্ত ভারী থেকে চরম ভারী বৃষ্টির (Extremely Heavy Rainfall) পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কোথায় কত সতর্কতা?
আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জেলাভিত্তিক যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, তা নিচে দেওয়া হলো:
-
লাল সতর্কতা (Red Alert): জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার। এই দুই জেলায় অতিবৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
-
কমলা সতর্কতা (Orange Alert): দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহার। এখানেও অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
-
হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert): মালদা, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর।
ভূমিধস ও প্লাবনের আশঙ্কা
টানা বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর জলস্তর বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভূমিধসের (Landslide) ঝুঁকি এবং নিচু এলাকায় প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কৃষি জমিতেও বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তির খবর শোনালেও পুরোপুরি বৃষ্টির হাত থেকে নিষ্কৃতি নেই। শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা কমলেও, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
তবে, আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে দক্ষিণবঙ্গে ফের বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদীয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সুখবর
আবহাওয়াবিদ সৌরীশ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের ওপর অবস্থানরত সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় এটি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে শনিবার থেকেই সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে মৎস্যজীবীদের ওপর থাকা বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
আপনার এলাকার আবহাওয়া সম্পর্কে আরও আপডেটেড থাকতে নজর রাখুন আমাদের পরবর্তী বুলেটিনে।