“১৯ বছর আগে ছিলেন কোলে”-ফাইনালে বিশ্বকাপে মেসি-ইয়ামালে হবেন মুখোমুখি

ফুটবল বিধাতা বোধহয় চিত্রনাট্যকার হিসেবে সবচেয়ে সেরা। ১৯ বছর আগে একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য তোলা একটি ছবি আজ বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার শীর্ষে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ২০ বছর বয়সি তরুণ লিওনেল মেসি পরম মমতায় স্নান করাচ্ছেন এক কয়েক মাস বয়সি শিশুকে। সেই শিশুটির নাম লামিনে ইয়ামাল। আজ সেই শিশুই বিশ্ব ফুটবলের নতুন সেনসেশন এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে মেসির প্রধান প্রতিপক্ষ।

কীভাবে এল সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত? ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ইউনিসেফ এবং বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য এই ফটোশুটটি হয়েছিল। ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ত জানান, লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছিল ইয়ামালের পরিবার। ভাগ্যের খেলায় ২০ বছর বয়সি উদীয়মান মেসি তখন জানতেন না, কয়েক মাসের সেই শিশুটি একদিন তাঁর সিংহাসনে ভাগ বসাতে আসবে।

ইয়ামাল যখন নিজেই বিস্মিত ইয়ামাল জানিয়েছেন, বহু বছর পর্যন্ত তিনি এই ছবিটির কথা জানতেনই না। পরে বাবার মুখে সব শুনে তিনিও চমকে গিয়েছিলেন। মেসির সঙ্গে তুলনা নিয়ে অত্যন্ত বিনয়ী ইয়ামাল বলেন, “ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের সঙ্গে তুলনা হওয়াটা সম্মানের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উচ্চতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। কারণ মেসি হওয়া সম্ভব নয়।”

মেসির উত্তরসূরি কি ইয়ামাল? যদিও এই ঐতিহাসিক সংযোগ নিয়ে মেসি খুব বেশি কথা বলেননি, তবে একাধিকবার ইয়ামালের খেলার প্রশংসা করেছেন। আর্জেন্তিনা অধিনায়কের মতে, ইয়ামাল তাঁকে নিজের শুরুর দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। আজ বিশ্ব ফুটবলের সবথেকে বড় মঞ্চে মেসি এবং ইয়ামাল যখন মুখোমুখি, তখন তা কেবল দুটি দলের লড়াই নয়, বরং এক প্রজন্মের কিংবদন্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রজন্মের নতুন রাজার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯ বছর আগের সেই একটি ক্লিকের ছবি আজ কোটি কোটি মানুষের আবেগ। ক্যামেরার সামনে যে স্নেহের বন্ধন তৈরি হয়েছিল, আজ সবুজ ঘাসের মাঠে তা অগ্নিপরীক্ষার মুখে। ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে রয়েছেন সেই মহারণের দিকে, যেখানে ইতিহাস নতুন করে লেখা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *