‘ডাবল ইঞ্জিন নয়, ডাবল বিপর্যয়!’ মুর্শিদাবাদের দুর্ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গর্জে উঠলেন অভিষেক

মুর্শিদাবাদের ট্রেন ও স্কুলগাড়ির সংঘর্ষের ভয়াবহ দুর্ঘটনায় শোকে স্তব্ধ রাজ্য। এই অকালমৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশের পাশাপাশি রেল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও কেন্দ্রের উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ তিনি।
দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। সেইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও দায়বদ্ধতার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “যখন একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে স্কুলগাড়ির সংঘর্ষ হয় এবং নিরীহ মানুষের প্রাণ যায়, তখন দায়বদ্ধতাকে কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যায় না।”
কেন এই দুর্ঘটনা? কাঠগড়ায় পরিকাঠামো রেলের সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন:
-
এটি কি পদ্ধতিগত গাফিলতির আরও একটি পরিণতি?
-
সিগন্যালিং ব্যবস্থার ব্যর্থতা কি এর কারণ?
-
নাকি প্রশাসনিক আত্মতুষ্টির বেদিতে সুরক্ষাকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে?
‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ব্যর্থতা তীব্র ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধে অভিষেক বলেন, বিজেপি শাসিত তথাকথিত ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ আসলে একটি ‘ডাবল ইঞ্জিন বিপর্যয়’-এ পরিণত হয়েছে। রেলের মতো জাতীয়স্তরের পরিবহণ ব্যবস্থায় বারবার যাত্রীদের সুরক্ষা কেন প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ন্যায়ের দাবিতে সরব তৃণমূল এই দুর্ঘটনার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কঠোর জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ঘটনার পেছনে যে স্তরের আধিকারিকদেরই গাফিলতি থাকুক না কেন, প্রত্যেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। কার ভুলে এতগুলো প্রাণ ঝরে গেল, তা অবিলম্বে প্রকাশ্যে আনা উচিত বলে তিনি দৃঢ় দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুর্শিদাবাদের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। একদিকে যেমন দুর্ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি উঠছে, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের শাসকদল এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের রেলনীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টায় মরিয়া।