‘আপনার হাতে এখন অনেক সময়, একবার দেখে যান’ -মমতাকে বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনো বড় ভারী শিল্পের শিলান্যাস হলো। তবে উন্নয়নের বার্তার পাশাপাশি, এই অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না তিনি।

হেলিকপ্টার দেওয়ার প্রস্তাব! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনার হাতে এখন অনেক সময় আছে। আপনি একবার এসে এই প্ল্যান্টের ভিতরটা ঘুরে দেখে যান। আমি নিজেই আপনার জন্য সরকারের হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দেব।” কিন্তু কেন এই আহ্বান? শুভেন্দু জানান, মমতা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন হিন্দিভাষী বা মাড়োয়ারি শিল্পপতিদের ‘বহিরাগত’ বলে নিশানা করতেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওঁকে দেখাতে চাই, এখানে মন্দির, রাধামাধবজি, শিবলিঙ্গ, গোশালা এবং সবুজায়নের পাশাপাশি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিও এখানে স্থাপন করা হয়েছে। এঁদের আর বহিরাগত বলবেন না।”

‘সিন্ডিকেটরাজ’ নিয়ে তোপ সাবেক সরকারের আমলে শিল্পক্ষেত্রে যে প্রতিকূল পরিবেশ ছিল, তাও আজ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “এই সরকার ক্ষমতায় না এলে এরা ওডিশা চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তৎকালীন সরকারের আমলে সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি এবং রাস্তাঘাটে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’-এর দাপটে শিল্পপতিরা অতিষ্ঠ ছিলেন। বর্তমান সরকার আসায় আজ বাংলা ও বাঙালি বেঁচেছে, এবং শিল্পপতিরা আবার এখানে ফিরছেন।”

শিল্পায়নে বড় লক্ষ্য শ্যাম স্টিল কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন এই কারখানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এই বড় প্রকল্পকে ঘিরে এলাকায় আরও অনেক ছোট-বড় অনুসারী শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, একাধিক বড় শিল্প গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্যের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর এবং শ্যাম স্টিলের নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস শিল্পমানচিত্রে বাঁকুড়াকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *