নাগরিকত্ব নির্ধারণ নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়, স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভারতের নাগরিক হওয়া—এই দুটির মধ্যে গুলিয়ে ফেলার কোনো অবকাশ নেই। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কারো নাম বাদ পড়া মানেই তিনি ভারতের নাগরিক নন, এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে ভোটার কার্ডের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা কাটাতে এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: এদিন সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে:
-
কমিশনের এক্তিয়ার: নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে কোনো আবেদনকারীর নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় আছে, তবে তারা ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন খারিজ করতেই পারে। সেই ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে।
-
নাগরিকত্বের বিচারক নয় কমিশন: আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো ব্যক্তি এদেশের নাগরিক কি না, সেই গুরুতর বিষয়টি নির্ধারণ করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। এটি কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।
-
সরকারি সুযোগ-সুবিধা: ভোটার তালিকায় নাম নেই বলেই একজন ব্যক্তিকে কোনো সরকারি নাগরিক পরিষেবা বা অন্যান্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? ভারতের আইন অনুযায়ী, ভোটার হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভারতের নাগরিক হতে হবে। কিন্তু এই নিয়মের ভুল ব্যাখ্যা বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ স্পষ্ট করে দিল যে, ভোটার তালিকার সঙ্গে নাগরিকত্বের সরাসরি সম্পর্ক থাকলেও, প্রশাসনিক কারণে নাম বাদ পড়লেই কোনো ব্যক্তির ‘নাগরিক’ তকমা কেড়ে নেওয়া যায় না।
এই রায়ের ফলে প্রশাসনিক জটিলতায় যারা এতদিন নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্কে ভুগছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তির বার্তা বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।