ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন, জলের দরে ভাড়া, জেনেনিন কী কী সুবিধে?

পরিবেশ দূষণ রোধে এবং আধুনিক ভারতের রেল পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে দেশে প্রথম বারের মতো চালু হলো অত্যাধুনিক হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। জার্মানি, জাপান বা চিনের পর এবার ভারতের নাম যুক্ত হলো এই ‘গ্রিন রেল’ প্রযুক্তির তালিকায়।

কী এই ‘Hydrogen for Heritage’ প্রকল্প? ভারতীয় রেলের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেন পরিবেশের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। কারণ, এটি চলার সময় কোনো ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত করে না; বদলে নির্গত হয় কেবল জলীয় বাষ্প। ফলে কার্বন নিঃসরণ হয় প্রায় শূন্য।

ট্রেনটির গতি ও ক্ষমতা: অত্যাধুনিক এই ট্রেনটির ইঞ্জিন ২৪০০ কিলোওয়াটের। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে সক্ষম, তবে বর্তমান ট্রায়াল রান অনুযায়ী এর কার্যকরী গতি থাকবে ঘণ্টায় ৭৫ কিমি। ট্রেনে থাকছে মোট ১০টি কোচ—যার মধ্যে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রীবাহী কোচ। একসঙ্গে প্রায় ২,৬০০ যাত্রী এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।

কোথায় চলবে এই ট্রেন? প্রাথমিকভাবে ট্রেনের রুট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ। এই রুটে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা, ভামভেওয়া, বুটানা-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে ট্রেনটি। রেল সূত্রে খবর, এই রুটে সাফল্য মিললে পরবর্তী সময়ে কালকা-শিমলা হেরিটেজ রুটেও এই পরিষেবা চালু করা হতে পারে।

টিকিটের দাম কত? সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এই ট্রেনের ভাড়া অত্যন্ত সাশ্রয়ী রাখা হয়েছে। মাত্র ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীরা খুব সহজেই IRCTC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা রেল স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে পারবেন।

কেন এই ট্রেন বিশেষ? বিশ্বের দীর্ঘতম এবং শক্তিশালী হাইড্রোজেন চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হিসেবে এটি ইতিমধ্যেই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন দিশা খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে রেলকে আরও পরিবেশবান্ধব করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *