“ছেলের বিয়ে দেখার স্বপ্ন ছিল, কপালে জুটল…!’”-কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেতনের বাবা

১৮ জুন ২০২৬। এই তারিখটি পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের পরিবারের কাছে এক অভিশপ্ত দিন হয়ে থাকবে চিরকাল। লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের সময় পাহাড়ের খাদ থেকে উদ্ধার হয় কেতনের দেহ। প্রাথমিক তদন্তে একে দুর্ঘটনা মনে হলেও, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

ছেলের শোকের ১৭ দিনের মাথায় হারালেন বাবাকেও একমাত্র সন্তানকে হারানোর যন্ত্রণায় যখন গোটা পরিবার দিশেহারা, ঠিক ১৭ দিনের মাথায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কেতনের দাদুও। ছেলের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরেই তাঁর প্রয়াণ হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “প্রতিটি বাবা চায় ছেলের সুখের সংসার দেখতে। কিন্তু আমার ভাগ্যে জুটল একমাত্র ছেলের শবযাত্রায় কাঁধ দেওয়া। এই যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

তদন্তে নতুন মোড়: কাঠগড়ায় বিয়ের মধ্যস্থতাকারীরা বিশাল আগরওয়াল জানান, নরেন্দ্র জগন্নাথ মিত্তল ও তাঁর স্ত্রী রেনু মিত্তলের মাধ্যমেই কেতনের বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক হয়েছিল। তাঁদের দেওয়া আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই পরিবার বিয়েতে রাজি হয়েছিল। এখন ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত সত্য জানতে এই দম্পতিকেও নিরপেক্ষভাবে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলেছেন বিশালবাবু। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, কারো বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই, তিনি কেবল নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান।

ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচারের দাবি এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুনে পুলিশের তদন্তের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন বিশাল আগরওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, দোষীরা যাতে দ্রুত এবং কঠোরতম শাস্তি পায়, সেজন্য মামলাটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে চালানোর আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

কী ঘটেছিল ১৮ জুন? পুলিশের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরী মিলে ঠান্ডা মাথায় কেতনকে পাহাড়ের খাদে ফেলে দিয়ে হত্যা করে। গত ২৩ জুন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তারা পুনের ইয়েরওয়াড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।

“কাউকে খুন করার অধিকার কারো নেই। এই সম্পর্ক যদি কারো পছন্দ না হতো, তবে তা ভেঙে দেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে একটি নিরীহ প্রাণ কেড়ে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না,” আক্ষেপ করে বলেন বিশাল আগরওয়াল। কেতনের পরিবার এখন অপেক্ষায়, আইনি পথে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে যাতে তাদের ছেলে শান্তি পায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *