ইপিএফও-র মাস্টারপ্ল্যান! এবার থেকে আপনার সুবিধামতো পিএফ-এ জমান টাকা, মিলবে কর ছাড়ের সুবিধাও!

দেশের কোটি কোটি ফ্রিল্যান্সার, গিগ ওয়ার্কার, ছোট ব্যবসায়ী এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য সুখবর। এতদিন যারা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)-এর আওতার বাইরে ছিলেন, এবার তারাও সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পেতে পারেন। সূত্রের খবর, ইপিএফও একটি ‘ইউনিভার্সাল প্রভিডেন্ট ফান্ড’ স্কিম চালুর পরিকল্পনা করছে।
নতুন স্কিমের বিশেষত্ব কী?
বর্তমানে ইপিএফও-র কর্মীরা যেভাবে অবসরের জন্য সঞ্চয় করেন, প্রস্তাবিত নতুন স্কিমটিও অনেকটা একই আদলে তৈরি হবে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
নমনীয় জমা: সদস্যরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, এমনকি বার্ষিক ভিত্তিতে টাকা জমা দিতে পারবেন।
আকর্ষণীয় সুদ: জমানো অর্থের ওপর বর্তমান ইপিএফ নিয়মের মতোই বার্ষিক সুদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কর ছাড়: প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, বছরে আড়াই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা এবং তার ওপর প্রাপ্ত সুদ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
সিস্টেমেটিক উইথড্রল: অবসরের পর পুরো টাকা একবারে না তুলে, প্রয়োজনে নিয়মিত বিরতিতে পেনশনের মতো নির্দিষ্ট অঙ্ক তুলে নেওয়ার সুযোগ (সিস্টেমেটিক উইথড্রল প্ল্যান) থাকবে।
প্রস্তুতি তুঙ্গে:
যদিও কেন্দ্র সরকার বা ইপিএফও এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, তবে নেপথ্যে প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। জানা গেছে, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় আইটি পরিকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই টেন্ডার ডাকা হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে এই ফান্ড?
উল্লেখ্য, এটি একটি স্ব-অর্থায়িত প্রকল্প হতে চলেছে। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন যোজনার মতো সরকার এখানে কোনো অনুদান দেবে না; সদস্যদের নিজস্ব অবদানের ভিত্তিতেই এই অবসরকালীন তহবিল গড়ে উঠবে। সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অবসরকালীন সঞ্চয় মডেলগুলি খতিয়ে দেখে সরকার এই পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কাজ করছে।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
দেশে গিগ ইকোনমি এবং ফ্রিল্যান্সিং পেশার প্রসার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। অথচ, এই পেশায় জড়িতদের জন্য প্রথাগত কোনো সামাজিক সুরক্ষা বা পিএফ-এর সুবিধা নেই। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মানুষ প্রথমবারের মতো একটি আনুষ্ঠানিক অবসরকালীন সঞ্চয় কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হবেন, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।
তবে, প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকারি ঘোষণার পরই এর নিয়মাবলী এবং আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।