“মদের গন্ধ মানেই চালক মদ্যপ নয়”-মামলা খারিজ করে বড় নির্দেশ আদালতের

শরীর থেকে মদের গন্ধ বেরোলেই একজন গাড়িচালককে ‘নেশাগ্রস্ত’ বলে দেগে দেওয়া যাবে না। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ প্রমাণ করতে হলে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। এক মামলার রায়ে এই পর্যবেক্ষণই জানাল উত্তরাখণ্ড হাইকোর্ট।

কী ঘটেছিল সেই মামলায়? উত্তরাখণ্ডের চামোলির বাসিন্দা অমর সিং বদ্রীনাথ থেকে ফেরার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনায় এক যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আহত হন অনেকে। পুলিশের দাবি ছিল, চালক অমর সেই সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত অমরকে দোষী সাব্যস্ত করে। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধে অমর সিং হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

কী জানাল হাইকোর্ট? বিচারপতি অলোক মেহরার বেঞ্চ মামলাটি খতিয়ে দেখে জানায়:

  • হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেবল চালকের শরীর থেকে মদের গন্ধ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছিল, কিন্তু নেশার মাত্রা যাচাই করার জন্য কোনো রক্ত পরীক্ষা বা ‘ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার’ (Breath Analyzer) পরীক্ষা করা হয়নি।

  • শুধু গন্ধের ওপর ভিত্তি করে কাউকে মদ্যপ বলা যায় না।

  • তদন্তে দেখা গেছে, ওই দুর্ঘটনাটি নেশার কারণে নয়, বরং গাড়ির টায়ার বিস্ফোরণের কারণেই হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং গাড়ির ফরেন্সিক পরীক্ষার ভিত্তিতেই আদালত অমরের বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধমূলক হত্যার মামলা খারিজ করে দিয়েছে।

রাজ্যের পুলিশের বক্তব্য কী? এই রায়ের প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের কর্তাদের দাবি, এই নিয়ম বা পদ্ধতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ অনেক আগে থেকেই মেনে চলছে। কলকাতা থেকে জেলা—সব ক্ষেত্রেই মদ্যপ চালকদের চিহ্নিত করতে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। শুধুমাত্র শারীরিক গন্ধের ভিত্তিতে পুলিশ কোনো চালকের বিরুদ্ধে মামলা করে না। রাজ্য পুলিশের এক কর্তার কথায়, “ব্রেথ অ্যানালাইজ়ার যন্ত্রে অ্যালকোহলের মাত্রা যদি বিপদসীমার উপরে ধরা পড়ে, তবেই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি।”

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ? আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় পুলিশি হয়রানি কমাতে সাহায্য করবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দুর্ঘটনার পর চালকের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই নেশার অভিযোগ তোলা হয়। আদালতের এই কড়া নির্দেশিকা প্রমাণ করল যে, অপরাধ প্রমাণের ক্ষেত্রে এখন থেকে অনুমানের চেয়ে বিজ্ঞানের ওপর ভরসা করাই হবে একমাত্র পথ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *