রাস্তার দরিদ্রদের খাবার কীভাবে হলো বিশ্বখ্যাত ‘পিৎজা’? জেনে নিন আজব ইতিহাসের অজানা কথা

আজকের দিনে কোনো নামী রেস্তোরাঁয় বসে একটি পিৎজার অর্ডার দেওয়া মানেই পকেট ফাঁকা। আমেরিকান বা মেক্সিকান স্টাইলের নানা ধরণের পিৎজার ভিড়ে আমরা আজ অভ্যস্ত। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে পিৎজা আজ আভিজাত্যের প্রতীক, তার জন্ম হয়েছিল মূলত গরিব মানুষের পেট ভরানোর জন্য?
পিৎজার সেই ‘সাদামাটা’ অতীত:
সপ্তদশ শতাব্দীর ইতালির নেপলস শহর। তখন আজকের মতো পিৎজা তৈরির এত আড়ম্বর ছিল না। সে সময় রাস্তার ধারের ছোট ছোট দোকানে ময়দার রুটির ওপর সামান্য মশলা, সবজি ও তেল দিয়ে তৈরি এক ধরণের খাবার বিক্রি হতো। নামমাত্র মূল্যে পাওয়া এই খাবারটিই ছিল নেপলসের দরিদ্র শ্রমিকদের সারাদিনের ক্লান্তি শেষে পেট ভরানোর একমাত্র ভরসা। তখন এর নাম ‘পিৎজা’ও ছিল না।
যেভাবে রাজকীয় প্রবেশ:
পিৎজার ভাগ্য বদলে গেল ১৮৮৯ সালে। ইতালির রাজা এবং রানি নেপলস ভ্রমণে এসে নতুন কোনো স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে চাইলেন। সেই সময় এক বুদ্ধিমান দোকানি সেই প্রচলিত রুটি-সবজির খাবারে মাংসের টুকরো যোগ করে অন্যরকম ভাবে রানিকে পরিবেশন করেন। খাবারটির অভিনব স্বাদে অভিভূত হয়ে যান রানি মার্গারিটা। তাঁর এই পছন্দই রাতারাতি বদলে দেয় পিৎজার ইতিহাস। রানির নামানুসারেই খাবারটির নাম দেওয়া হয় ‘মার্গারিটা পিৎজা’।
বিশ্বজুড়ে জয়যাত্রা:
রানির পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পর পিৎজা আর সাধারণ শ্রমিকদের খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রইল না। অভিজাত মহলে শুরু হলো পিৎজা খাওয়ার ধুম। এরপর ইতালি থেকে আমেরিকা হয়ে পিৎজার জনপ্রিয়তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল সারা বিশ্বে।
আজ পিৎজা মানেই মাল্টি-ন্যাশনাল ব্র্যান্ডের দাপট, কিন্তু তার শিকড় এখনো সেই নেপলসের অলিগলির মাটির গন্ধে মিশে আছে। সাধারণ এক রুটি-সবজির খাবার কীভাবে মানুষের সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে, পিৎজা তার এক অনন্য উদাহরণ।