“১৯৯৮ বা ২০০৪-এর মতো আবার শুরু করব!” হার মানতে নারাজ মমতা, কী বার্তা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী?

বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয় এবং একের পর এক নেতার দলত্যাগের আবহে বুধবার ফেসবুক লাইভে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থেকে ঋতব্রতর ‘নব তৃণমূল’-এ যোগদানের হিড়িক নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দিলেন, তিনি হার মানার পাত্রী নন।
“আবার শূন্য থেকে শুরু করব”
ফেসবুক লাইভে মমতা স্মৃতিচারণ করে বলেন, “১৯৯৮ সালে নতুন দল গঠন, ২০০৪-এ একা পথ চলা—সবই আমি দেখেছি। যদি তখন নতুন করে শুরু করতে পারি, তবে ২০২৬-এও আবার শুরু করতে পারব।” তাঁর মতে, যারা দল ছাড়ছেন তারা ‘বেঈমান’। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমাপ্রার্থী যে এমন ব্যক্তিদের এতদিন বিশ্বাস করেছিলাম। এদের অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ আছে, যা এখন পরিষ্কার হচ্ছে। অনেক অজানা সত্য এখন আমার সামনে আসছে।”
কাদের পাশে পাচ্ছেন মমতা?
দল ভাঙলেও মমতা যে একা নন, তা এদিন আবারও বুঝিয়ে দিলেন তিনি। তিনি জানান, লোকসভার ৮ জন ও রাজ্যসভার ১০ জন সাংসদ ছাড়াও বহু বিধায়ক এবং নিচুতলার ত্যাগী কর্মীরা এখনো তাঁর সঙ্গে আছেন। তিন প্রজন্মের যে কর্মী-বাহিনী তিনি গড়ে তুলেছেন, তাদের মাথার ওপর ছাতার মতো থাকছেন তিনি।
২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি ও ভয়
সামনে ২১ জুলাইয়ের শহিদ সভা। কিন্তু মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই সভা বানচাল করতে বর্তমান শাসকদল ডেকোরেটরদের ভয় দেখাচ্ছে। তাঁর দৃঢ় ঘোষণা, “আমরা খালি গলাতেও বক্তৃতা দিতে পারি, প্রয়োজনে রিক্সার ওপর দাঁড়িয়েও সভা করব। কিন্তু জনগণের মুখ বন্ধ করা যাবে না।”
সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে ‘অপসংস্কৃতি’ ও ‘লুম্পেনদের শাসন’ বলে অভিহিত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা জোর করে ক্ষমতায় এসেছেন, ভালো কাজ করুন। আমরা গঠনমূলক সহযোগিতা করতে পারি। কিন্তু মনে রাখবেন, একতরফা অত্যাচার ও দুরাচার চললে আমরা মুখ বন্ধ করে বসে থাকব না। নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে।”
রাজনীতির ময়দানে মমতার এই ‘রিসারজেন্স’ বা পুনরুত্থানের ডাক ২১ জুলাইয়ের মঞ্চকে কতটা উত্তপ্ত করে তোলে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।