‘পিঙ্ক বুথ’-এর সামনে ৪০ মিনিটের আর্তনাদ, পুলিশের সামনেই প্রাণ গেল ২২ বছরের যুবকের!

পুলিশের কাছে সাহায্যের আর্তি জানিয়েও শেষ পর্যন্ত মিলল না রেহাই। উল্টে পুলিশের চরম উদাসীনতা ও অসংবেদনশীলতার অভিযোগ উঠল গাজিয়াবাদের এক দল মহিলা পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পিঙ্ক পুলিশ বুথের দরজায় টানা ৪০ মিনিট সাহায্যের জন্য চিৎকার করেও মেলেনি সাড়া, যার পরিণতিতে রক্তক্ষরণ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো ২২ বছরের এক যুবকের।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার (১২ জুলাই) গাজিয়াবাদের মধুবন বাপুধাম থানা এলাকার সঞ্জয় নগরে। পেশায় গাড়ির মেকানিক রাজ কুমার (২২) একটি অটোয় ওঠার পর চালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, বচসা মারধরের পর্যায়ে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে রাজ কুমার কাছের ‘পিঙ্ক পুলিশ বুথ’-এর দিকে দৌড়ে যান। কিন্তু সেই বুথের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিতরে থাকা দুই মহিলা পুলিশকর্মী সাহায্যের জন্য কোনো পদক্ষেপই করেননি।
টানা ৪০ মিনিট আর্তনাদ করেও যখন কোনো সাহায্য মেলেনি, তখন হতাশ ও ক্ষুব্ধ রাজ কুমার বুথের জানলার কাচে সজোরে ঘুষি মারেন। কাচ ভেঙে যুবকের হাতের প্রধান শিরা কেটে যায় এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোতে শুরু করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি রাস্তাতেই লুটিয়ে পড়েন। ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, যুবকটি যখন যন্ত্রণায় ছটফট করছেন, তখনও পুলিশকর্মী বা পথচারীরা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই মৃত্যু হয়।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ACP) উপাসনা পান্ডে দাবি করেছেন, যুবক ও অটোচালক দুজনেই মদ্যপ ছিলেন এবং রাগের মাথায় রাজ কুমার নিজেই কাচ ভেঙে নিজেকে জখম করেন। তবে মৃতের পরিবারের প্রশ্ন, “একজন মানুষ রক্তাক্ত অবস্থায় সাহায্যের জন্য ভিক্ষা চাইছিল, তখন পুলিশ কি তাকে প্রাথমিক চিকিৎসাটুকু দিতে পারত না?” মৃতের পরিবার আরও জানিয়েছে, রাজ কুমারের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এখন শোকস্তব্ধ। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পার হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।
তদন্তে প্রশাসন: ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গাজিয়াবাদ পুলিশ জানিয়েছে, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিয়োগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনায় কার কতটা দায় রয়েছে, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন।