একই বিপদে কেউ শেষ হয়ে যান, কেউ ঘুরে দাঁড়ান! হার্ভার্ডের গবেষণায় ফাঁস হলো দীর্ঘজীবী হওয়ার আসল গোপন চাবিকাঠি

কেউ কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েই ভেঙে পড়েন, আবার কেউ একই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও খুঁজে নেন নতুন সম্ভাবনা। দুজনের জীবনে হয়তো একই রকম চ্যালেঞ্জ থাকে, কিন্তু মানসিকতায় থাকে এক আকাশ-পাতাল পার্থক্য। এই পার্থক্যের নামই হলো ‘আশাবাদ’। অনেকেই মনে করেন, আশাবাদী হওয়া মানে কেবলই ফাঁকা ইতিবাচক কথা বলা। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, আশাবাদ আসলে একটি শক্তিশালী মানসিক অভ্যাস, যা মানুষকে কঠিন পরিস্থিতিতেও বুক চিতিয়ে লড়াই করার শক্তি জোগায়।
গবেষণাও বলছে, আশাবাদী মানুষেরা শুধু মানসিকভাবেই নয়, শারীরিকভাবেও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হন। এই ইতিবাচক মানসিকতার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর ১২ জুলাই পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক আশা দিবস’। প্রতিকূলতা যতই বড় হোক না কেন, আশা হারিয়ে না ফেলাই যে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি, দিনটি আমাদের সেটাই মনে করিয়ে দেয়।
বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞান কী বলছে এ বিষয়ে? জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত:
১. হার্ভার্ডের গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
‘হার্ভার্ড টি. এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষদের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। ইতিবাচক মানসিকতা শরীরে কর্টিসল হরমোন বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হার্ট সুস্থ রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।
২. ব্যর্থতাকে জয় করার সাহস
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আশাবাদী মানুষেরা ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ বা ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখেন না। তারা প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার নতুনভাবে শুরু করার সাহস পান। ফলে তীব্র হতাশা বা উদ্বেগ তাদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখতে পারে না।
৩. সম্পর্কের বন্ধন হয় আরও দৃঢ়
আশাবাদী মানুষরা সাধারণত অন্যদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখেন। তারা সহজে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, ছোট ছোট সাফল্য উদ্যাপন করেন এবং সম্পর্কের যেকোনো সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে পছন্দ করেন। এ কারণে পরিবার, বন্ধু কিংবা কর্মক্ষেত্রে তাদের সম্পর্কও তুলনামূলক অনেক বেশি মজবুত হয়।
৪. কর্মক্ষেত্রে ঈর্ষণীয় সাফল্য
চাকরি বা ব্যবসায় সব সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু চলে না। আশাবাদী মানুষেরা সাময়িক মন্দা বা ব্যর্থতাকে স্থায়ী মনে না করে নতুন সুযোগের সন্ধান করেন। এই দূরদর্শী মানসিকতা তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং দলগত কাজেও দারুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৫. কেবল সমস্যা নয়, মন দিন সমাধানে
কঠিন সময় এলে সাধারণ মানুষ শুধু সমস্যার দিকে তাকিয়ে ভয় ও উদ্বেগ বাড়াতে থাকেন। কিন্তু আশাবাদী মানুষ ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ছোট ছোট সমাধানের পথ খুঁজতে চেষ্টা করেন। তারা জানেন, সব সমস্যার সমাধান একদিনে হয় না, তবে এক ধাপ করে এগোলে পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
কীভাবে নিজের মধ্যে এই আশাবাদী মনোভাব গড়ে তুলবেন?
আশাবাদ কোনো জন্মগত বৈশিষ্ট্য নয়, এটি আসলে অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে তোলা একটি দারুণ অভ্যাস। মাত্র কয়েকটি সহজ উপায়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন আশাবাদী:
কৃতজ্ঞতার ডায়েরি: প্রতিদিন অন্তত তিনটি ভালো ঘটনার কথা ডায়েরিতে লিখে রাখুন। নিজের ছোট ছোট সাফল্যকেও সমান গুরুত্ব দিন।
ইতিবাচক স্বগতোক্তি (Self-Talk): নিজের সঙ্গে নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করুন। ‘আমি পারব না’ বলার বদলে নিজেকে বলুন ‘আমি অন্তত চেষ্টা করব’। এই ছোট পরিবর্তনই আপনার আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
প্রকৃতি ও বইয়ের সান্নিধ্য: নেতিবাচক খবরের ভিড়ে কিছু সময় ভালো বই পড়ুন, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুন অথবা প্রিয় মানুষের সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটান।