২২ জুলাই ভাগ্য নির্ধারণ! সুপ্রিম কোর্টে উঠতে চলেছে মেগা ডিএ মামলা, এবার কি বড়সড় চাপে পড়তে চলেছে নয়া সরকার?

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী মহলে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ফের একবার চড়চড় করে চড়তে শুরু করেছে পারদ। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ মেনে নতুন সরকার পঞ্চম পে-কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করলেও, ক্ষোভ কিন্তু কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, এখনও এক বিশাল অংশের রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী এই প্রাপ্য থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। এই গরম আবহের মধ্যেই চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের দেশের সর্বোচ্চ আদালতে উঠতে চলেছে এই হাইভোল্টেজ মামলা, যা নিয়ে নতুন সরকারের ওপর চাপ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের চরম বঞ্চনা! এবার আদালতের নজরে
ডিএ আন্দোলনের মূল সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’ এবার আইনি লড়াইয়ে আরও আক্রমণাত্মক রূপ নিতে চলেছে। সংগঠনের মূল লক্ষ্য— রাজ্যের সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত (গ্রান্ট ইন এইড) প্রতিষ্ঠানগুলির কর্মীদের বঞ্চনার ছবিটা সুপ্রিম কোর্টের সামনে তুলে ধরা। এর মধ্যে রয়েছেন:

স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীবৃন্দ

পুরসভা ও পঞ্চায়েতের কর্মচারীরা

বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত পেনশন প্রাপকরা

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানগুলির অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ-র আংশিক অংশও এখনও হাতে পাননি। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত সরকারি কর্মীরা বকেয়া ডিএ পেয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও সর্বভারতীয় মূল্য সূচকের (AICPI) সঠিক ভিত্তি মানা হয়নি বলে অভিযোগ। আগামী শুনানিতে এই সমস্ত গরমিল ও বঞ্চনার খতিয়ান সরাসরি বিচারপতিদের বেঞ্চে পেশ করতে চলেছে কনফেডারেশন।

সুপ্রিম কোর্টের সেই কড়া নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি
স্মরণ করা যেতে পারে, পঞ্চম পে কমিশনের এই ঐতিহাসিক ডিএ মামলায় তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট কড়া নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশ ছিল, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, ধাপে ধাপে বকেয়ার ১০০ শতাংশ অর্থই রাজ্যকে মেটাতে হবে এবং এর জন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়েছিল।

গত শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ বকেয়া মেটানোর অগ্রগতি নিয়ে নতুন রাজ্য সরকারের কাছে একটি ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ (Status Report) তলব করেছিল।

২২ জুলাই কি চূড়ান্ত ফয়সালা?
আদালত সূত্রে খবর, আগামী ২২ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তবে মামলাকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকা অনুযায়ী এই তারিখ দু-একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে।

পালাবদলের পর নতুন সরকারের দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্টের জবাবে আদালত কী অবস্থান নেয়, আর বঞ্চিত কর্মীদের পক্ষে কনফেডারেশনের সওয়াল মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরায়— এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও প্রবীণ পেনশনভোগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *