রুপোর ইট নিয়ে বিতর্ক! সিন্ধি সম্প্রদায়ের প্রশ্নের উত্তরে বিস্ফোরক তথ্য দিল রাম মন্দির ট্রাস্ট

রাম মন্দিরে সিন্ধি সম্প্রদায়ের দেওয়া ২০০ কেজি রুপোর ইট নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তার অবসান ঘটাল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, দান করা সেই বিপুল পরিমাণ রুপো নিরাপদে রয়েছে এবং তার নথিপত্রও যথাযথভাবে সংরক্ষিত।

ট্রাস্টের স্পষ্ট জবাব: ওয়ার্ল্ড সিন্ধি ফোরামের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি জানান, ২০২১ সালে দান করা ওই ২০০ কেজি রুপোর ইটগুলো গলিয়ে ৯৯.৯৯ শতাংশ বিশুদ্ধতার ২০ কেজি রুপোর বার তৈরি করা হয়েছে। এই রুপোর বারগুলো বর্তমানে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) অযোধ্যা শাখায় ট্রাস্টের নিজস্ব লকারে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। ট্রাস্ট তাদের উত্তরের সঙ্গে রুপোর ওজন এবং বার তৈরির প্রক্রিয়ার ছবি ও নথিপত্রও প্রমাণ হিসেবে পাঠিয়েছে।

কী নিয়ে ছিল বিতর্ক? কিছুদিন আগেই বিশ্ব সিন্ধি সেবা সঙ্গম ট্রাস্টের কাছে জানতে চেয়েছিল যে, ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারি যে ২০০ কেজি রুপো দান করা হয়েছিল, তার বর্তমান অবস্থা কী? সংগঠনের অভিযোগ ছিল, দানের আনুষ্ঠানিক কোনো রসিদ তারা পায়নি এবং রুপোটি কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য তাদের জানানো হয়নি। ট্রাস্টের এই স্বচ্ছ জবাবের পর সেই সংশয় অনেকটাই কেটেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

দাতার নাম সংগ্রহের উদ্যোগ: ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রতিটি দাতার নামে পৃথকভাবে দাপ্তরিক রসিদ প্রদান করা হবে। এর জন্য বিশ্ব সিন্ধি সেবা সঙ্গমকে ২০০ জন দাতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, প্যান এবং ইমেল আইডি জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ট্রাস্ট।

নৈবেদ্য চুরির তদন্তে নতুন মোড়: এদিকে, রাম মন্দিরে প্রসাদ বা নৈবেদ্য চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্র অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রসাদ গণনার সময় নয়, চুরির বিষয়টি আরও গভীরে। মেশিন দিয়ে প্রসাদ গণনার প্রক্রিয়ার মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে চুরি চালানো হতো বলে খবর। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা প্রসাদ সংগ্রহ ও গণনার দায়িত্বেই ছিলেন। এই ঘটনার তদন্তে এখন আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথে মন্দির কর্তৃপক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *