কোটি টাকার ওষুধ কেন মাটির নিচে? ‘সেবাশ্রয়’ দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় ডায়মন্ড হারবার

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্প নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধল। ডায়মন্ড হারবারের সরিষা ও হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। সোমবার সন্ধ্যায় পারুলিয়া কোস্টাল থানায় তিনি লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগের মূল কারণ:
গত ১০ জুন হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে প্রচুর ওষুধ উদ্ধার করেন স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপির দাবি, নির্বাচনে তৃণমূল জয়ী হওয়ার পরেই এই বিপুল পরিমাণ ওষুধ তড়িঘড়ি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়। অভিজিৎ দাস ববির অভিযোগ, এর পেছনে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি ও ওষুধ পাচারের ছক রয়েছে।

বিজেপি নেতা ববির বিস্ফোরক দাবি:
থানায় অভিযোগ দায়েরের পর ববি একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন:

মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ: উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে বেশ কিছুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, এই প্রকল্প থেকে রোগীদের মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধও দেওয়া হতো।

মূল্যের কারচুপি: যে ওষুধের খোলা বাজারে দাম ১০ টাকা, সেটির এমআরপি (MRP) ১২০ টাকা দেখানো হয়েছে। স্থানীয় কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ওষুধ কিনে এই বিপুল তছরুপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

আর্থিক বেনিয়ম: কোটি কোটি টাকার ওষুধ কেন এভাবে নষ্ট করা হলো, তার পেছনে বড় কোনো আর্থিক বেনিয়ম রয়েছে কি না, তা নিয়ে সিবিআই বা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি।

আইনি জটিলতায় অভিষেক:
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর সহযোগী সুমিত রায় ছাড়াও তৎকালীন জেলাশাসক ও স্বাস্থ্যকর্তাদের নাম অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারী ববির কথায়, “সরকার বদল বা পরিস্থিতি পরিবর্তনের সাথে সাথেই এই ওষুধগুলো গায়েব করার চেষ্টা কেন হলো? সেবাশ্রয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরই খুঁজে বের করতে হবে।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, পুলিশ নমুনা সংগ্রহ করলেও এত বড় ঘটনার পরও কেন সঠিক মামলা রুজু করছে না, তা নিয়ে রহস্য বাড়ছে। তৃণমূলের এই ‘লাইফলাইন’ প্রকল্প এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *