‘দেব-রাজনীতি’র পর্দাফাঁস! ১০০ কোটির দুর্নীতি থেকে তোলাবাজি, বাগুইআটিতে ত্রাস দেবরাজ-অদিতি দম্পতি?

কাউন্সিলর পরিচয় ছাপিয়ে বাগুইআটির অলিগলিতে এক সময় চলত শুধু ‘দেব-রাজনীতি’। যার নেতৃত্বে ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী এবং তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকাশ্যে আসছে এই দম্পতির একের পর এক কীর্তি। সম্পত্তির হিসাব লুকানো থেকে শুরু করে তোলাবাজি—প্রতিটি অভিযোগই এখন বাগুইআটির সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।

১০০ কোটির সম্পত্তির হিসাব ও গ্রেফতারি
দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হিসাব গোপনের অভিযোগ উঠেছে। আদালত থেকে রক্ষাকবচ উঠে যাওয়ার পর বর্তমানে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন দেবরাজ। অন্যদিকে, ৪ মাসের সন্তান থাকায় মানবিক কারণে আপাতত হাইকোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েছেন অদিতি মুন্সি।

কী এই কুখ্যাত ‘দেব-রাজনীতি’?
বাগুইআটির বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই দম্পতির ‘রাজনীতি’ মানেই ছিল টাকার খেলা। প্রোমোটার অভিজিৎ সাহা রায়ের অভিযোগ, ফ্ল্যাট তৈরির কাজ শুরু করলেই দেবরাজের এজেন্টরা (যেমন মাইকেল বা সম্রাট বড়ুয়া) এসে মোটা টাকা দাবি করতেন। ৪০ লক্ষ টাকা দাবি করে শেষপর্যন্ত ৩০ লক্ষে ‘সেটেলমেন্ট’ হতো। শুধু প্রোমোটার নন, এলাকার প্রবীণ নাগরিক থেকে অটোচালক—প্রত্যেকেই মুখ খুলেছেন। অভিযোগ, অটোর কাজের জন্য যে খরচ ২০ হাজার টাকা হওয়ার কথা, তার জন্য নেওয়া হতো দ্বিগুণ। বাকি টাকা সরাসরি পৌঁছাত দেবরাজের পকেটে।

জনরোষের মুখে দম্পতি
এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাঁধ ভেঙেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা জানালেন, “পারিবারিক সমস্যা মেটানোর নাম করে ওরা টাকার লেনদেন করত। আমরা এদের ব্যবহারে অতিষ্ঠ।” আর এক বাসিন্দা তো রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “ওরা অসভ্য। এদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।”

অনেকের মতে, দেবরাজের ক্ষমতার দাপট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সাধারণ মানুষ মুখ খোলার সাহসও পেতেন না। কিন্তু পুলিশি হেফাজতে যাওয়ার পর এখন বাগুইআটির মানুষ যেন দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। যদিও তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *