পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন মামলা! তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তাল ঠাকুরপুকুর

রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ফের দানা বাঁধল আইনি জটিলতা। ছয় বছর আগেকার এক পুরনো ঘটনার জেরে এবার ঠাকুরপুকুর থানায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন কাউন্সিলর ঘনশ্রী বাগ এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ দায়ের করলেন এক গৃহবধূ।
অভিযোগের নেপথ্যে কী:
অভিযোগকারিণীর দাবি, ২০২০ সালে তাঁর শ্বশুর বিজেপি সমর্থক হওয়ায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। এরপরই ওই গৃহবধূর দাবি অনুযায়ী, জেল থেকে শ্বশুরকে দ্রুত মুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগ, এখানেই থামেননি অভিযুক্তরা। এরপর তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হয়। ব্যবসা গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য করার পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে আরও ১ কোটি টাকা তোলা দাবি করা হয় বলে এফআইআরে উল্লেখ করেছেন ওই মহিলা।
রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ:
গৃহবধূর স্পষ্ট দাবি, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রত্যক্ষ মদতেই এই গোটা ঘটনাটি ঘটেছিল। অভিযোগের তালিকায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও নাম রয়েছে ঘনশ্রী বাগ, তিলক ভট্টাচার্য এবং সুদীপ ঘোষের। অভিযোগকারিণীর কথায়, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে এত দিন তিনি আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সাহস পাননি। রাজ্যে সরকার বদলের পর তিনি নতুন করে এই মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশি তদন্ত শুরু:
ঘটনাটি ২০২০ সালের হওয়ায় পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছে। তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঠাকুরপুকুর থানা ইতিমধ্যে ঘটনার নথিপত্র এবং অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগের আবহে, এই নতুন মামলাটি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তুলল। পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তের মোড় কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।