ডেলিভারি বয়ের ছদ্মবেশে ‘সিরিয়াল কিলার’! ভোপালে শতাধিক মানুষকে এইচআইভি ছড়ানোর ভয়ংকর ছক?

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালের কাটারা হিলস এলাকা এখন এক চরম আতঙ্কের নাম। পুলিশের জালে ধরা পড়া এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন তদন্তকারীরা। ডেলিভারি বয়ের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এই যুবক আসলে একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত ‘সিরিয়াল কিলার’। শুধু খুনই নয়, সে জেনেশুনে মানুষের শরীরে ‘মৃত্যুর ভাইরাস’ (এইচআইভি) ছড়িয়ে দিচ্ছিল বলে অভিযোগ।

ডেলিভারি বয়ের আড়ালে অন্ধকার জগৎ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত যুবক ভোপালে ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করত, যার সুবাদে শহরের প্রতিটি অলিগলি এবং নির্জন রাস্তা ছিল তার নখদর্পণে। রাতের অন্ধকারে ডেলিভারির অজুহাতে বেরিয়ে সে মদের লোভ দেখিয়ে একা পথচারীদের ফাঁদে ফেলত। বিশেষ করে ফুটপাতে ঘুমানো অসহায় মানুষকে সে বেছে নিত শিকার হিসেবে। অতিরিক্ত মদ খাইয়ে অচেতন করার পর, অত্যন্ত নৃশংসভাবে পাথর দিয়ে মাথা থেঁতলে দিয়ে খুন করত সে।

১১৫ জনের সঙ্গে সম্পর্কের দাবি, পুলিশে চাঞ্চল্য
জিজ্ঞাসাবাদে এই খুনি যে তথ্য দিয়েছে, তা পুলিশের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ২০১৮ সালে জেল থেকে বেরোনোর পর থেকে সে স্থায়ী কোনো ঠিকানায় থাকত না। রিমান্ডে সে দাবি করেছে, সে ১০০ জন পুরুষ এবং ১৫ জন নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তার এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পুলিশের এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, গত কয়েক বছরে তার সংস্পর্শে আসা সকলকে চিহ্নিত করা।

এইচআইভি পজিটিভ কি প্রতিশোধের অস্ত্র?
মামলার সবচেয়ে ভয়ার্ভ তথ্যটি সামনে আসে যখন জানা যায়, খুনি নিজেই এইচআইভি পজিটিভ। ২০২২-২০২৩ সালে অন্য একটি মামলায় জেলবন্দি থাকাকালীন তার ডাক্তারি পরীক্ষায় এই সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। পুলিশের ধারণা, এইচআইভি আক্রান্ত হওয়ার আক্রোশ থেকেই সে বেছে বেছে মানুষকে সংক্রমিত করার বা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ‘শিকারি’ খেলায় মেতে উঠেছিল।

ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার হাতড়াচ্ছে পুলিশ
শনিবার ফরেনসিক দল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে। ঘটনার নৃশংসতা দেখে কর্মকর্তারাও স্তম্ভিত। বর্তমানে ধৃতের মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, চ্যাট রেকর্ড এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কাটারা হিলস থানার অফিসার সুনীল দুবে জানান, অভিযুক্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদিও এখনো পর্যন্ত কোনো নারী বা কিশোরীকে জোরপূর্বক নির্যাতনের সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, তবে প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত অভিযুক্তকে পুলিশ রিমান্ডে রাখা হয়েছে। এই সাইকো কিলারের জালে আরও কতজন পড়েছে, তা নিয়ে গোটা শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *