রাম মন্দিরে কেজরিওয়াল: অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে সরব আপ প্রধান, চাইলেন পাপীদের কঠোর শাস্তি!

রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদান সংক্রান্ত বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগের আবহে অযোধ্যায় পৌঁছে রাম লালার দর্শন করলেন আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার দলের সাংসদ সঞ্জয় সিং ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছে কেজরিওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, যারা রাম মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছে, তাদের যেন রেহাই না দেওয়া হয়।
মন্দির থেকে সরাসরি বার্তা
দর্শন শেষে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “আজ আমরা রাম লালার কাছে প্রার্থনা করেছি— শ্রী রাম মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে পূজা-অর্চনা ও অনুদান চুরির মতো জঘন্য পাপ যারা করেছে, তাদের যেন কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হয়।” মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়েই তিনি সরকারি ব্যর্থতাকে নিশানা করে সুর চড়ান। এ সময় আম আদমি পার্টির কর্মীদের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও দেখা যায়।
সরকার কী বলছে?
অন্যদিকে, এই বিতর্কে পাল্টা চাপে ফেলেছে বিজেপি। উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানিয়েছেন, অনুদান কেলেঙ্কারির অভিযোগটি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। দোষী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিজেপি সাংসদ দীনেশ শর্মা বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, “রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তুলছে। কিন্তু সত্য হলো, বিরোধীদের অভিযোগ তোলার আগেই মন্দির ট্রাস্ট নিজে এফআইআর দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে একটি সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে এবং এই ঘটনায় জড়িত আটজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।” অর্থাৎ, সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি করা হচ্ছে।
বিতর্কের নেপথ্যে
অযোধ্যা রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পরেই উত্তাল হয়ে ওঠে জাতীয় রাজনীতি। গত ২৫ জুন এই ঘটনায় প্রথম এফআইআর দায়ের করা হয়। একদিকে আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এই সফর ও মন্দির থেকে পাপীদের শাস্তির দাবি, অন্যদিকে সরকারি তৎপরতার দাবি—সব মিলিয়ে অযোধ্যাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে।