প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় ছাত্রীকে নির্মম মারধর! দুমকায় অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী

শিক্ষকের হাতেই আক্রান্ত পড়ুয়া। ক্লাসে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠল ঝাড়খণ্ডের দুমকার এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা ছাত্রী বর্তমানে দুমকার ফুল ঝানো মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় এলাকায়।
কী ঘটেছিল সেইদিন?
ঘটনাটি ঘটেছে দুমকা জেলার সদর ব্লক এলাকার বানকাঠি আপগ্রেডেড মিডল স্কুলে। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ক্লাসে পাঠদান চলাকালীন প্রধান শিক্ষক রণবীর মাল্লাহ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আনুকে (ছদ্মনাম) কিছু প্রশ্ন করেন। মেয়েটি অসুস্থ থাকায় প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শিক্ষক। অভিযোগ, অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেই ওই ছাত্রীকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি। মারের চোটে মুহূর্তের মধ্যেই জ্ঞান হারায় ওই ছাত্রী।
পরিবার ও গ্রামবাসীদের ক্ষোভ
ঘটনাটি জানাজানি হতেই পরিবারের সদস্যরা দ্রুত স্কুলে ছুটে যান এবং জ্ঞানহীন অবস্থায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিলেও, এই ঘটনায় শিক্ষক-ছাত্রীর পবিত্র সম্পর্কের ওপর কালিমা লেপন হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা। তাদের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা যেখানে শিক্ষকদের হাতে থাকার কথা, সেখানে এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রশাসনের আশ্বাস
ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে দুমকা জেলা শিক্ষা সুপারিনটেনডেন্ট বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ব্লক শিক্ষা সম্প্রসারণ কর্মকর্তাকে দ্রুত একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঝাড়খণ্ডে কি বাড়ছে এমন প্রবণতা?
উল্লেখ্য, শিক্ষকের হাতে পড়ুয়াদের নির্যাতনের ঘটনা ঝাড়খণ্ডের জন্য নতুন নয়। এর আগে ২০২৫ সালে লোহাড়দাগা জেলার এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউকেজি-র ছাত্রের আঙুল ভেঙে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একের পর এক এমন ঘটনায় ঝাড়খণ্ডের স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।