উত্তরাখণ্ডে ধরা পড়ল খ্যাপাটে চোর! টাকা-গয়না নয়, শুধু মেয়েদের অন্তর্বাস চুরির পেছনের কারণ শুনে মাথায় হাত পুলিশের

তীব্র মানসিক চাপ এবং ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা একজন মানুষকে দিয়ে ঠিক কী কী করাতে পারে, তার এক নজিরবিহীন ও অদ্ভুত উদাহরণ সামনে এল উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানির নবাবী রোড এলাকায়। সেখানকার পুলিশ এমন এক চোরকে গ্রেফতার করেছে, যার চুরির ধরন দেখে তাজ্জব বনে গেছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। সোনা, দানা, টাকা বা কোনো মূল্যবান জিনিস নয়; এই যুবকের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র মহিলাদের অন্তর্বাস! অভিযুক্তের অদ্ভুত কীর্তি এবং তার চুরির পেছনের যুক্তি এখন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে পুলিশ মহলে চরম চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ল মাঝরাতের কাণ্ড
ঘটনাটি ঘটে গত ১৯শে জুন, ২০২৬ তারিখ রাতে। হলদওয়ানির নবাবী রোডের মহেশ নগরের বাসিন্দা এক মহিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায়, ১৯শে জুন ভোররাত ৩টা ২৩ মিনিট নাগাদ এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ওই মহিলার বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকে। এরপর সে উঠোনে শুকোতে দেওয়া মহিলাদের অন্তর্বাস ও সালোয়ার চুরি করে চম্পট দেয়। বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় বন্দি হওয়া এই চুরির ভিডিওটি নিমেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
তৎপর পুলিশ প্রশাসন
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জড়িত এই সংবেদনশীল বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেন নৈনিতালের এসএসপি ডঃ মঞ্জুনাথ টিসি। তাঁর নির্দেশে হিরানগর থানার ইনচার্জ সঞ্জিত রাঠোরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে অবশেষে গত বুধবার পঞ্চায়েত ঘর রোড থেকে পুলিশ অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
বিদেশে পড়াশোনা, বন্ধুর বুদ্ধিতেই ‘নোংরা খেলা’!
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম নিকেত সিং বিষ্ট, সে হলদওয়ানির কুসুমখেড়া এলাকার সমীর বিহারের বাসিন্দা। পুলিশ জানতে পেরেছে যে নিকেত কোনো সাধারণ চোর বা দুষ্কৃতী নয়। সে রীতিমতো উচ্চশিক্ষিত এবং বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে ভারতে ফিরে এসেছিল।
কিন্তু কেন সে এমন অদ্ভুত চুরির পথ বেছে নিল? এই প্রশ্নের উত্তরে নিকেত পুলিশকে জানায় যে, সে বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিল। নিজের এই মানসিক সমস্যার কথা সে তার এক বন্ধুকে জানালে, সেই বন্ধুই তাকে এই অদ্ভুত নিদান দেয়। বন্ধুটি তাকে বোঝায়, এই ধরনের কাজ করলে মনে মারাত্মক রোমাঞ্চ জাগে এবং মানসিক চাপ কমে যায়। এরপর থেকেই নিজের মনের শান্তি ও সাময়িক আনন্দের খোঁজে রাতের অন্ধকারে মেয়েদের অন্তর্বাস চুরি করা শুরু করে সে।
পুলিশের অনুমান: যুবকটি ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’র শিকার
হলদওয়ানির পুলিশ কর্মকর্তা বিজয় মেহতা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত যুবকের মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না। পুলিশের সন্দেহ, সে ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’ (Kleptomania) নামক একটি বিশেষ মানসিক ব্যাধিতে ভুগছে। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো আর্থিক লাভের জন্য নয়, বরং এক অদ্ভুত মানসিক তৃপ্তি, রোমাঞ্চ ও তাৎক্ষণিক আনন্দের টানে অপ্রয়োজনীয় ও অদ্ভুত জিনিস চুরি করার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
তবে পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মানসিক অবস্থা যাই হোক না কেন, নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার মতো কোনো কাজ বরদাস্ত করা হবে না। ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।