কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে থ্রিডি ফ্রেমের ব্যবসায় বাজিমাত! মেদিনীপুরের যুবকের সাফল্যের কাহিনি ভাইরাল

করোনা অতিমারি কেড়ে নিয়েছিল বহু মানুষের চেনা জীবিকা। কিন্তু সেই বিপর্যয়কেই সুযোগে বদলে ফেলে আজ সমাজের বুকে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ের যুবক দিব্যেন্দু দাস। কর্পোরেট জগতের মোটা মাইনের গ্রাফিক্স ডিজাইনারের চাকরি ছেড়ে তিনি আজ এক সফল স্টার্ট-আপের মালিক।
শূন্য থেকে শুরুর গল্প
লকডাউনের সময় ঘরবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন দিব্যেন্দু। কর্পোরেট জীবনের ইঁদুর দৌড় থেকে বেরিয়ে নিজের সৃজনশীলতাকে পেশায় রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। জমানো মাত্র ২৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেন নতুন লড়াই। স্ত্রী সুস্মিতা দাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেছে নেন থ্রিডি (3D) গিফট ও ফটো ফ্রেম তৈরির অভিনব ব্যবসা।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণেই বাজিমাত
খরচ কমাতে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছেন দিব্যেন্দু। স্থানীয় দোকান থেকে কম দামে পুরনো ফ্রেম ও প্লাস্টিক ফুল সংগ্রহ করে সেগুলোকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য (Recycle) করে তোলেন তিনি। এরপর নিজের সৃজনশীল ছোঁয়ায় সেগুলোকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলেন, যা দেখতে জীবন্ত মনে হয়। এই কাস্টমাইজড থ্রিডি ফ্রেমের গুণমান ও অভিনবত্ব খুব দ্রুত ক্রেতাদের নজর কাড়ে।
মেদিনীপুর ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যে ব্যবসা
বর্তমানে দিব্যেন্দুর এই ‘হাতের জাদু’ মেদিনীপুরের গণ্ডি পেরিয়ে ভিন রাজ্যেও পৌঁছে গিয়েছে। অনলাইন অর্ডারের মাধ্যমে কুরিয়ার করে ফ্রেম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দূর-দূরান্তে। দোকান এবং অনলাইন—দুই মাধ্যম মিলিয়ে বর্তমানে দম্পতির মাসিক আয় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা।
যুবসমাজের কাছে নতুন বার্তা
কর্পোরেট মোহ কাটিয়ে সামান্য পুঁজিতে দিব্যেন্দু ও সুস্মিতার এই যৌথ উদ্যোগ আজ তাঁদের সংসারে এনেছে সচ্ছলতা। শুধু তাই নয়, চাকরির পেছনে না ছুটে কীভাবে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা যায়, তার এক জোরালো বার্তাও তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন এলাকার তরুণ প্রজন্মের কাছে।