১২ লক্ষ টাকা আয় করেও ‘ট্যাক্স ফ্রি’! কীভাবে? জানুন নতুন আয়কর ব্যবস্থার ম্যাজিক

কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৫-এ আয়কর নিয়মে বড়সড় পরিবর্তনের পর থেকেই মধ্যবিত্ত করদাতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি কাজ করছে। বিশেষ করে ১২ লক্ষ টাকা বার্ষিক আয়বিশিষ্ট বেতনভোগী কর্মীদের জন্য নতুন কর ব্যবস্থা (New Tax Regime) বর্তমানে এক দারুণ সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেন? চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তুলনামূলক হিসাব।
নতুন আয়কর ব্যবস্থার সুবিধা:
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৭৫,০০০ টাকা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন (Standard Deduction) পাওয়া যায়। ফলে ১২ লক্ষ টাকার আয়ের ওপর ৭৫,০০০ টাকা ছাড় দেওয়ার পর করযোগ্য আয় দাঁড়ায় ১১.২৫ লক্ষ টাকা। ধারা 87A-এর অধীনে রিবেট পাওয়ার ফলে আপনার করের পরিমাণ হয়ে যাচ্ছে শূন্য (০ টাকা)। অর্থাৎ, বিনিয়োগের কোনো ঝামেলা ছাড়াই আপনি ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকতে পারছেন।
পুরানো আয়কর ব্যবস্থার চিত্র:
পুরানো ব্যবস্থায় একাধিক বিনিয়োগ ও ছাড় থাকলেও করের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো নেন:
-
বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA): ৬০,০০০ টাকা
-
লিভ ট্রাভেল অ্যালাউন্স (LTA): ২০,০০০ টাকা
-
পেশাগত কর: ২,৪০০ টাকা
-
ধারা 80C (যেমন: PF/LIC): ১.৫ লক্ষ টাকা
-
ধারা 80D (স্বাস্থ্যবিমা): ৫০,০০০ টাকা
-
ধারা 80E (শিক্ষা ঋণ): ২৫,০০০ টাকা
এই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং ছাড় পাওয়ার পরও ওই ব্যক্তির করযোগ্য আয় দাঁড়ায় প্রায় ৮.৪৩ লক্ষ টাকা। এই পরিমাণ আয়ের ওপর ৮৪,২৬১ টাকা আয়কর দিতে হয়।
এক নজরে তুলনা:
| বিষয় | নতুন কর ব্যবস্থা | পুরানো কর ব্যবস্থা |
| মোট আয় | ১২ লক্ষ টাকা | ১২ লক্ষ টাকা |
| করযোগ্য আয় | ১১.২৫ লক্ষ টাকা | ৮.৪৩ লক্ষ টাকা |
| প্রদেয় কর | শূন্য (০ টাকা) | ৮৪,২৬১ টাকা |
নিষ্কর্ষ:
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের অতিরিক্ত বিনিয়োগের সুযোগ নেই, তাঁদের জন্য নতুন কর ব্যবস্থাই বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক। তবে যাঁদের বড় অঙ্কের হোম লোন বা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, তাঁদের অবশ্যই হিসাব করে দেখা উচিত কোন ব্যবস্থাটি তাঁদের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হবে।
আইটিআর (ITR) ফাইল করার আগে নিজের আয় ও বিনিয়োগের কাগজপত্র ভালো করে পর্যালোচনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।