তৃণমূল নেতার কীর্তি! সরকারি পার্ক থেকে আস্ত এসি চুরি করতে গিয়ে গ্রেফতার প্রাক্তন ব্লক সভাপতি

দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে একের পর এক অস্বস্তিতে শাসকদল। এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন সরকারি পার্ক থেকে এসি চুরির অভিযোগ। এই অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বাঁকুড়ার রানিবাঁধের প্রাক্তন তৃণমূল ব্লক সভাপতি উত্তম কুম্ভকার। সরকারি সম্পত্তি তছরুপ ও চুরির অভিযোগে তাঁকে এক দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল খাতড়া মহকুমা আদালত।

ঠিক কী ঘটেছিল?
মুকুটমনিপুর উন্নয়ন পর্ষদের অধীনে থাকা একটি শিশু উদ্যান ও সংলগ্ন লজ গত কয়েক বছর ধরে চুক্তির ভিত্তিতে পরিচালনা করতেন উত্তম কুম্ভকার। রাজ্যে প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, গত ২২ জুন পর্ষদের তরফে ওই শিশু উদ্যানটি বন্ধ করার নোটিস জারি করা হয়। অভিযোগ, পার্ক বন্ধের নির্দেশ পাওয়ার পরেই মঙ্গলবার রাতে উত্তম কুম্ভকারের নির্দেশে দুই ব্যক্তি উদ্যানের এসি মেশিনগুলো খুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পুলিশি তৎপরতা ও মামলা
ঘটনার খবর গোপন সূত্রে জানাজানি হতেই মুকুটমনিপুর উন্নয়ন পর্ষদ তড়িঘড়ি খাতড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তম কুম্ভকারকে তলব করে। প্রাথমিকভাবে যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধনসহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।

কী বলছেন অভিযুক্তের আইনজীবী?
অন্যদিকে, আইনি জটিলতায় পড়া তৃণমূল নেতা উত্তম কুম্ভকারের আইনজীবী যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র। তবে সরকারি সম্পত্তি খোলা বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যে ধরনের আইনি অনুমতির প্রয়োজন হয়, এই ঘটনায় তার কোনো তোয়াক্কা করা হয়নি বলেই মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন।

গোটা ঘটনায় রানিবাঁধ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিরোধীদের কটাক্ষ, দলের নেতাদের এই ধরনের ‘ছোটখাটো’ চুরির প্রবণতাই প্রমাণ করে শাসকের অন্দরে দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *