“শুভেন্দু আমার খুব ভালো বন্ধু…”! ২০২৬-এর মহাবিপাকেরই মাঝে শুভেন্দুকে নিয়ে এ কী বিস্ফোরক দাবি মহুয়ার?

বর্তমানে তাঁরা রাজনীতির ময়দানে দুই সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর বাসিন্দা। একজন তৃণমূলের ডাকাবুকো সাংসদ, অন্যজন বিজেপির শীর্ষনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু একসময় তাঁরা দুজনেই ছিলেন এক দলের সতীর্থ। এবার সেই পুরনো অধ্যায়ের অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অজানা কিছু ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। একইসঙ্গে তিনি সাফ জানালেন, শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বিজেপিতে চলে গেলেও তাঁদের মধ্যেকার সেই ব্যক্তিগত ‘কানেকশন’ আজও রয়ে গিয়েছে।

“শুভেন্দু আমার খুব ভালো বন্ধু…”! পুরোনো দিনের গোপন কথা
সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সমীকরণ নিয়ে অকপট মুখ খোলেন মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন:

“শুভেন্দু আমার খুব ভালো বন্ধু। আমরা যখন একসঙ্গে এক দলে ছিলাম, সেই সময় উনি আমায় অনেক সাহায্য করেছেন।”

কৃষ্ণনগরের সাংসদ স্মৃতিচারণ করে জানান, বিধানসভা নির্বাচনে তিনি যখন প্রথম করিমপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন, সেই কঠিন সময়ে তাঁর হয়ে প্রচার করতে দলের কেউ এগিয়ে আসেননি। একমাত্র শুভেন্দুই প্রথম তাঁর সমর্থনে মিছিল করেছিলেন। মহুয়ার দাবি, এখনও সেই সময়ের ছবি দেখলে শুভেন্দু এবং তাঁকে একসাথেই দেখা যাবে।

সাংসদ আরও একটি আবেগঘন মুহূর্ত শেয়ার করে বলেন, “আমার তখন নির্বাচনী পতাকার প্রয়োজন ছিল, শুভেন্দু আমায় তা পাঠিয়ে দিতেন। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে আমার টিকিট পাওয়ার কথা থাকলেও শেষমেশ পাইনি। এই নিয়ে আমি সারারাত কেঁদেছিলাম। সেই সময় শুভেন্দু আমায় সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন—বোন, তোমার সঙ্গে আছি।”

আরও পড়ুন:

মমতার তৃণমূল নাকি ঋতব্রতর, কার পাশে কেষ্ট? এক উত্তরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

ববি-অরূপকে সাফ করায় শুভেন্দু ও বিজেপিকে ‘ধন্যবাদ’ মহুয়ার!
অতীতের বন্ধুত্বের কথা মনে রাখার পাশাপাশি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ফিরহাদ হাকিম (ববি) এবং অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েটদের রাজনৈতিক পতন নিয়ে শুভেন্দু ও বিজেপিকে আকস্মিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন মহুয়া মৈত্র।

তৃণমূলের ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রসঙ্গে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবাসার খাতিরে এতদিন ধরে যে শুদ্ধিকরণ করতে পারেননি, যে ফিরহাদ হাকিম, যে অরূপকে এতদিন ঝেড়ে মুছে সাফ করতে পারেননি, শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি এসে তা একদিনে করে দিয়েছে। এর জন্য আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

দলবদলুদের তোপ: কর্মীদের বিশেষ বার্তা
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে যখন পরিষদীয় থেকে সংসদীয় দলে দফায় দফায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন মহুয়া। দলবদলু নেতাদের তীব্র কটাক্ষ করে সাধারণ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:

“প্রত্যেক কর্মীকে বলছি, ওনাদের যেতে দিন। আমরাও তো একসময় নিতাম। সিপিআইএম থেকে কতজন সদস্য যোগ দিতেন মনে আছে? যখন যোগ দিতেন, দেখা যেত ওই বুথেই আমরা হেরে গিয়েছি। কারণ নেতা বা সদস্য এলেও ভোটাররা আসত না। ঠিক এই জিনিসটাই এখন হচ্ছে। এই নির্বাচিত সদস্যদের যেতে দিন। এরা কেউ নিজের ক্ষমতায় জেতেনি, সবাই দলের প্রতীক আর সাধারণ কর্মীদের পরিশ্রমে জিতেছিল।”

টলিপাড়া থেকে শুরু করে ফুটবল ময়দান—চারদিকের এই টালমাটাল রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে মহুয়া মৈত্রের এই ‘শুভেন্দু-বন্দনা’ এবং দলের একাংশকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ, বাংলার রাজনীতির অন্দরে যে নতুন এক ঝড়ের জন্ম দিল, তা বলাই বাহুল্য!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *