লখনউ অগ্নিকাণ্ডে শেষ বাংলার অনামিকা! নভেম্বরেই ছিল বিয়ে, হবু স্বামীর সাথে মর্মান্তিক পরিণতি শুনে কাঁদছে গোটা রাজ্য

স্বপ্নপূরণের জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন ভিন রাজ্যে। অ্যানিমেশন শিখে লখনউয়ের এক কোচিং সেন্টারে চাকরিও পেয়েছিলেন। কিন্তু এক লহমায় একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কেড়ে নিল সবকিছু। লখনউয়ের আলিগঞ্জের এক কোচিং সেন্টারে ঘটে যাওয়া সেই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার মেয়ে অনামিকা সামন্ত (২৪)। সোমবার সকালে তাঁর নিথর দেহ গ্রামে এসে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা এলাকা।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, এই একই অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে অনামিকার হবু স্বামী নীলেশ কুমারেরও। আগামী নভেম্বর মাসেই চার হাত এক হওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু বিয়ের সানাই বাজার আগেই বেজে গেল বিষাদের সুর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে অনামিকার পরিবার কলকাতার নিউ আলিপুরে থাকলেও তাঁর পৈতৃক বাড়ি জগৎবল্লভপুরে। সাড়ে তিন বছর আগে অ্যানিমেশন শিখে লখনউয়ের ওই কোচিং সেন্টারে কাজে যোগ দেন অনামিকা। সেখানে কাজের সূত্রেই সহকর্মী নীলেশ কুমারের সঙ্গে আলাপ এবং গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে আগামী নভেম্বরেই তাঁদের বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু গত সোমবারের সেই অভিশপ্ত দুপুর ওলটপালট করে দিল দুটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। বিল্ডিংয়ের ভয়াবহ আগুনে যে ১৫ জন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যান, তাঁদের মধ্যেই ছিলেন এই প্রেমিক যুগল।
সোমবার রাতে এই মর্মান্তিক খবর পৌঁছায় অনামিকার নিউ আলিপুরের বাড়িতে। খবর পেয়েই মঙ্গলবার সকালে বিমানে করে লখনউ পৌঁছান অনামিকার বাবা-মা, কাকা ও ভাই। লখনউয়ের মর্গে গিয়ে মেয়ের আগুনে ঝলসে যাওয়া দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া শরীরের মধ্যে মুখের সামান্য একটি অংশ দেখেই কোনওরকমে নিজেদের আদরের সন্তানকে শনাক্ত করেন অসহায় বাবা-মা। সোমবার সকালে অনামিকার কফিনবন্দি দেহ গ্রামে আসতেই থমথমে হয়ে যায় গোটা এলাকা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর লখনউ প্রশাসনের ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যে বহুতলটিতে আগুন লাগে, সেখানে একটি অ্যানিমেশন ট্রেনিং সেন্টার, পোষ্য প্রাণীর দোকান সহ একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন লাগার পর বাঁচার জন্য অনেকেই জানলা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে:
একটি আবাসিক ভবনে কীভাবে এভাবে রমরমিয়ে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলছিল?
বহুতলটিতে কেন কোনও জরুরি নির্গমন পথ (Emergency Exit) ছিল না?
ফায়ার সেফটি বা অগ্নি নির্বাপণ বিধি কি আদেও মানা হয়েছিল?
যদি সমস্ত নিয়ম মানা হতো, তবে হয়তো অকালেই ঝরে যেত না অনামিকা ও নীলেশের মতো ১৫টি তরতাজা প্রাণ। এই চরম গাফিলতির দায় এখন কে নেবে, সেই প্রশ্নই তুলছেন মৃতের স্বজনরা।