জি-৭ সম্মেলনে মোদীর ম্যাজিক! ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ইউরোপের শিল্পপতিদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

বিশ্বমঞ্চে ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জি-৭ শীর্ষসম্মেলনে অংশ নিতে ফ্রান্সের এভ্যাঁ-লে-ব্যাঁ শহরে পৌঁছে তিনি ব্যস্ত রইলেন একের পর এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে। কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী শিল্পপতি ও কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করে ভারতে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করাই ছিল প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য।

বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে ভারত:
গত দশ বছরে মোদী সরকার ভারতকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ও নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলেছে। মজবুত গণতন্ত্র, স্থিতিশীল সরকার, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং বিশাল ভোক্তা বাজারকে হাতিয়ার করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনই এখন নয়াদিল্লির প্রধান কৌশল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে ভারতকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ‘নিরাপদ বন্দর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই পদক্ষেপ।

বৈঠকের প্রধান আকর্ষণ:
এদিনের আলোচনা ছিল বহুমুখী। ভারতের পরিকাঠামো, উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ছিল আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

সাঁ-গবাঁ (Saint-Gobain): নির্মাণ ও উৎপাদন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সংস্থাটির সিইও বেনোয়া বজাঁর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সংস্থার দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।

অ্যালস্টম (Alstom): রেল প্রযুক্তি সংস্থাটির সিইও মার্টিন সিয়নের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের রেলব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং উচ্চগতির পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মিস্ট্রাল এআই (Mistral AI): কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে দ্রুত উত্থানশীল এই সংস্থার সিইও আর্থার মেনশের সঙ্গে বৈঠকে প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভারত এখন AI খাতকে আগামী দিনের উন্নয়নের প্রধান ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে দেখছে।

কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকগুলো কেবল বিনিয়োগ পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ। উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে সবুজ জ্বালানি, রেল অবকাঠামো থেকে ডিজিটাল প্রযুক্তি—সর্বক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ভারত যে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইছে, জি-৭ সম্মেলনের এই বৈঠকগুলো তার অন্যতম মাইলফলক।

বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এভাবেই আন্তর্জাতিক শিল্পমহলের কাছে স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী, যা আগামী দিনে দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *