সুন্দরবনের খাঁড়িতে বাঘের হামলা! রান্নার সময় নৌকায় ঢুকে নারীকে টেনে নিয়ে গেল রয়্যাল বেঙ্গল

জীবিকার তাগিদে বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীলতা আবারও কেড়ে নিল এক প্রাণ। সুন্দরবনের ফুলবাড়ি অরণ্য এলাকার খাঁড়িতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের অতর্কিত আক্রমণে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো বন্দনা দাস (৩৫) নামে এক নারী জেলের। কুলতলি ব্লকের গৌরের চক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কীভাবে ঘটল ঘটনা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১২ই জুন বন্দনা দেবী ও তাঁর স্বামী জয়নগর ঘাট থেকে নৌকায় করে সুন্দরবনের কোলুস ক্যাম্পের কাছের ফুলবাড়ি অরণ্য এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। বুধবার বিকেলে নৌকায় যখন বন্দনা দেবী রান্নার কাজ করছিলেন, ঠিক তখনই জঙ্গল থেকে আচমকা বেরিয়ে আসে একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। বাঘটি অতর্কিতভাবে নৌকায় ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বন্দনা দেবীর গলা কামড়ে ধরে জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

স্বামী বাঁচাতে চাইলেও শেষরক্ষা হলো না
স্ত্রীর ওপর বাঘের এই নারকীয় আক্রমণ দেখে চিৎকার শুরু করেন তাঁর স্বামী। চিৎকার-চেঁচামেচিতে বাঘটি বন্দনা দেবীকে ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলে পালিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর শরীরে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে তাঁকে জয়নগর-কুলতলি ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঝুঁকি জেনেই অরণ্যের পথে
সুন্দরবন অঞ্চলের হাজার হাজার পরিবারের প্রধান জীবিকাই হলো মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতি মুহূর্তে বাঘের আক্রমণের ভয় থাকা সত্ত্বেও, চরম দারিদ্র্য ও আর্থিক অনটনের কারণে মানুষ বাধ্য হয়েই বাঘ অধ্যুষিত গভীর জঙ্গলের দিকে পা বাড়ান। এই পরিবারটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

খবর পেয়েই কুলতলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাসপাতাল থেকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সুন্দরবনের গহীনে মাছ ধরতে গিয়ে বারবার ঘটে চলা এই ধরনের করুণ ঘটনা ফের একবার স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও জীবিকার সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *