‘সম্মান পেলে দল করব!’ দলবদল নিয়ে মুখ খুললেন অনুব্রত মণ্ডল, দরজা খুলছে কংগ্রেস?

বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতার পারদ তুঙ্গে। দলের ভরাডুবি এবং নেতৃত্বের একাংশের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন বীরভূমের শক্তিশালী নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ও তৃণমূল ছাড়ার ইঙ্গিত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র জল্পনা।

অনুব্রতের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক অবস্থান:
অনুব্রত মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে আমার অবস্থান স্পষ্ট। সম্মান পেলে দল করব, না পেলে করব না।” দলের এই শোচনীয় অবস্থার জন্য সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-কে দায়ী করেছেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তাঁর নিশানা ছিল আই-প্যাকের প্রতি। অনুব্রতর কথায়, “দলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে আই-প্যাক। ২০১১, ২০১৪ বা ২০১৯ সালে তো আই-প্যাক ছিল না। দলটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, তিনি লড়াই করে তৈরি করেছেন।”

মমতা ও কংগ্রেস প্রসঙ্গ:
তৃণমূল নেত্রীর প্রতি কিছুটা নরম সুর শোনা গেল অনুব্রতর কণ্ঠে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক ভালোবাসতাম। কিন্তু শেষদিকে তিনি কার পাল্লায় পড়লেন, বুঝতে পারলাম না। আমার হাতে শেষদিকে ঘি খাননি। কংগ্রেসকে চটানোটা আমাদের বড় ভুল হয়েছে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই আমরা প্রথম ক্ষমতায় এসেছিলাম।”

কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনা?
রবিবার রামপুরহাটে একটি যোগদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। সেখানে অনুব্রত মণ্ডলের কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিজিৎবাবু একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অনুব্রত মণ্ডল আমাদের দলের কর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছেন। কর্মীরা যদি তাঁকে ক্ষমা করতে রাজি হন, তবেই দলে নেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজিৎবাবু বলটি কার্যত অনুব্রতর কোর্টেই ঠেলে দিলেন।

ঘরওয়াপসি রামপুরহাটে:
একদিকে যখন অনুব্রতকে নিয়ে জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই রামপুরহাটে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে প্রায় সাড়ে তিনশো কর্মী তৃণমূলে ফেরার পরিবর্তে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এঁদের মধ্যে দুই মাস আগে অনুব্রতর হাত ধরে তৃণমূলে যাওয়া স্থানীয় নেতা শাহজাদা হোসেন কিনুও রয়েছেন। বীরভূমের এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখন তৃণমূলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।