“দিদিকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না”-সুদীপ দলছুট হলেও নয়না মমতার পাশেই

স্বামী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়া এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছিল চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। তৃণমূলের অন্দরেও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, সুদীপের দেখানো পথেই হাঁটবেন তাঁর স্ত্রী নয়না। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে নয়না সাফ জানালেন, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই তিনি অবিচল থাকবেন।
রবিবার সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পরই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে ওঠে। এমনকি তৃণমূলের একাংশ দাবি করতে শুরু করেন যে, নয়নাও খুব শীঘ্রই বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেবেন। কিন্তু এই জল্পনাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়ে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে দিদির সঙ্গেই আছি। তিনি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। যাঁকে আমি আমার ‘দুর্গা’ বলে ডেকেছি, তাঁকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারি?”
নিজের রাজনৈতিক আনুগত্যের কথা স্পষ্ট করে নয়না আরও যোগ করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমার নেত্রী। তাঁকে ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতেও পারি না।”
উল্লেখ্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন নয়নাকে। অনেকে মনে করেছিলেন, নয়নার শিবির বদল এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। দলেরই কিছু সহকর্মীর এই ব্যক্তিগত আক্রমণে যথেষ্ট মর্মাহত নয়না।
তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, “দলের ভেতরেই কিছু সহকর্মী আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। এই বিষয়ে আমি দলনেত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েছি।”
সব মিলিয়ে, স্বামীর রাজনৈতিক অবস্থান বদল সত্ত্বেও যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আস্থাশীল, তা স্পষ্ট করে রাজনৈতিক মহলের সমস্ত জল্পনার ইতি টেনেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়।