১০০ দিনের কাজের কোটি কোটি টাকা লুট! গণরোষের মুখে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা

দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগের পর অবশেষে পুলিশের জালে উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের তৃণমূল নেতা তথা কাজের সুপারভাইজার গৌতম বৈদ্য। ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর গ্রেফতারি ঘিরে এখন খাঁপুকুর এলাকায় ব্যাপক শোরগোল।

কী অভিযোগ গ্রামবাসীদের?
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প চলাকালীন খাঁপুকুর এলাকায় সুপারভাইজারের দায়িত্বে ছিলেন গৌতম বৈদ্য। অভিযোগ, এলাকার প্রায় তিন শতাধিক জব কার্ড হোল্ডারকে দিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটানো হলেও, অধিকাংশ শ্রমিকই পাননি তাঁদের ন্যায্য মজুরি। অভিযোগ, টাকা চাইতে গেলে ওই নেতার হুমকির মুখে পড়তে হতো গরিব গ্রামবাসীদের।

বঞ্চিত গ্রামবাসী বিধান মণ্ডলের অভিযোগ, “আমরা কাজ করার পরেও টাকা পাইনি। অথচ আমাদের না জানিয়েই জব কার্ডে জালিয়াতি করে সেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। খাতায়-কলমে সব টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে লিখে দেওয়া হয়েছে।” অপর এক ভুক্তভোগী অতসী মণ্ডলের অভিযোগ, জব কার্ড করে দেওয়ার নাম করে তাঁর কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও ঠিকঠাক কার্ড দেওয়া হয়নি, উল্টে তাতে অন্য ব্যক্তির পরিচয়পত্র সংযুক্ত করে জালিয়াতি করা হয়েছে।

গণবিক্ষোভ ও গ্রেফতারি
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ যেন বিস্ফোরণ ঘটাল খাঁপুকুরে। কয়েকশো বঞ্চিত জব কার্ড হোল্ডার একত্রিত হয়ে গৌতম বৈদ্যকে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসনাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই নেতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরবর্তীতে গ্রামবাসীদের লিখিত অভিযোগ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে গৌতম বৈদ্যকে গ্রেফতার করা হয়।

রাজনৈতিক তরজা
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির হিঙ্গলগঞ্জ ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক মানস মণ্ডল বলেন, “তৃণমূল আমলে সাধারণ মানুষকে কাজ করিয়েও টাকা দেওয়া হয়নি। হাসনাবাদের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদে নামছেন। এই বিক্ষোভ আসলে সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া দীর্ঘদিনের অত্যাচারেরই প্রতিফলন।”

তবে এই বিষয়ে হাসনাবাদের এসডিপিও ওমর আলি মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বঞ্চনার পর আইনি পদক্ষেপের খবর শুনে খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন খাঁপুকুরের সাধারণ মানুষ।