রাম মন্দির দান বিতর্ক! নীরবতা ভাঙলেন চম্পত রায়ের ঘনিষ্ঠ তিনু যাদব, দিলেন বড় জবাব

রাম মন্দির ট্রাস্টের দান এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা একাধিক বিতর্কিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে মুখ খুললেন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী তিনু যাদব। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

যা বললেন তিনু যাদব
তৃণমূল স্তরে মন্দির চত্বরের কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনু যাদব অভিযোগের জবাবে বলেন, “মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে কারণ আমি চম্পত রাইজির ঘনিষ্ঠ। আমার মাধ্যমে কেউ চাকরি পায়নি, এমনকী আমার ছেলেও ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত নয়।” তিনি জানান, তাঁর ভাইপো মনীশ সেখানে কাজ করলেও, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর কোনো যোগসূত্র নেই। কোনো ব্যক্তি দোষী প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে প্রমাণ ছাড়া ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টার তীব্র নিন্দা করেছেন তিনি।

দানবক্স ও হিসাবের স্বচ্ছতা
মন্দিরের দানবাক্স খোলা এবং টাকা গোনা নিয়ে ওঠা বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনু যাদব দাবি করেন, এখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “দানবাক্স খোলার পুরো প্রক্রিয়াটি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-এর কর্মীদের সামনেই হয়। টাকা গণনার কাজে প্রায় ৫০ জন নিয়োজিত থাকেন, যা অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে করা হয়। কোনো হিসাবরক্ষকের পদ না থাকলেও পুরো বিষয়টি অত্যন্ত স্বচ্ছ। যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে, ফলে টাকা চুরির কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

রাজনৈতিক অভিসন্ধি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ
নিজের অতীত জীবন ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনু যাদব জানান, তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) সঙ্গে যুক্ত। একসময় ট্যাক্সি ও টেম্পো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও, এখন চম্পত রাইয়ের নির্দেশে তিনি মন্দির ট্রাস্টের কাজ তদারকি করেন। তাঁর কথায়, “মহিপাল যে অভিযোগগুলো করছেন, তা ২০২১ সালের। এতদিন পরে কেন এই অভিযোগ আনা হলো? আমার পারিবারিক ব্যবসার কথা টেনে এনে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে।”

তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস
ট্রাস্টের দায়িত্বে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনু যাদব স্পষ্ট জানান, সংস্থা তাঁকে যে দায়িত্বই দেবে, তিনি তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। নিজের সমস্ত সম্পত্তির হিসাব দিতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। চম্পত রাইয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনু যাদবের এই সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক মহলে এবং মন্দির ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তদন্তের দাবি উঠেছে, যার পূর্ণাঙ্গ উত্তর মিলবে তদন্ত শেষ হলেই— এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।