১৩২ ফুটের আস্ত মোবাইল টাওয়ার উধাও! বিহারের চোরদের কাণ্ড দেখে মাথায় হাত পুলিশের

পকেটমারি, গয়না বা বাইক চুরির ঘটনা তো রোজই শোনা যায়। কিন্তু কখনো শুনেছেন চোরেরা আস্ত একটি ১৩২ ফুট উঁচু মোবাইল টাওয়ার চুরি করে চম্পট দিয়েছে? শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এমনই এক আজব ও চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনা ঘটেছে বিহারের বক্সার জেলায়। চোর চক্র কেবল বিশালাকার এই টাওয়ারই নয়, সাথে থাকা একটি ১৫ কেভি (KV) জেনারেটর সেট এবং আরও বেশ কিছু দামি প্রযুক্তিগত সরঞ্জামও ওড়াও করে দিয়েছে। এই চুরির ঘটনা এখন পুরো বিহার রাজ্যে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বক্সার জেলার ডুমরাওন থানা এলাকার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে। বহু বছর ধরে অচল পড়ে থাকা একটি মোবাইল টাওয়ার মেরামত করতে সম্প্রতি জিটিএল (GTL) কোম্পানির কর্মকর্তারা ওই এলাকায় পৌঁছালে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। সেখানে গিয়ে তারা তো রীতিমতো শকড! যে জায়গায় বিশাল টাওয়ারটি দাঁড়িয়ে থাকার কথা, সেখানে এখন শুধুই ফাঁকা মাঠ।

দিনদুপুরে তিল তিল করে ‘উধাও’ হলো ১৩২ ফুটের টাওয়ার!
একটি জনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কীভাবে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এত বড় টাওয়ার উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এক চমকপ্রদ তথ্য:

১৫ দিনের মিশন: স্থানীয়রা জানান, টাওয়ারটি প্রায় ১৫ বছর ধরে সেখানে ছিল। গত ১৫-২০ দিন ধরে একদল লোক এসে প্রতিদিন ধীরেসুস্থে টাওয়ারের অংশগুলো কাটছিল এবং গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছিল।

কোম্পানির লোক ভেবে ভুল: আবাসিক এলাকার মানুষ ভেবেছিলেন, হয়তো মোবাইল কোম্পানির লোকেরাই তাদের পুরোনো অচল টাওয়ারটি খুলে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে কেউই চোরদের বাধা দেয়নি বা সন্দেহ করেনি!

জমির মালিকের ক্ষোভ: “টাকাই দেয়নি কোম্পানি”
যে জমিতে এই মোবাইল টাওয়ারটি বসানো হয়েছিল, তার মালিক হরেনাথ যাদব জানান এক অন্য গল্প। তিনি বলেন, ২০১০ সালে উক্ত কোম্পানির সঙ্গে তাঁর ১২ বছরের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মেয়াদ ২০২২ সালেই শেষ হয়ে যায়। চুক্তি শেষ হওয়ার পর থেকে কোম্পানি তাঁকে আর কোনো ভাড়া বা বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেনি। এই নিয়ে তিনি কোম্পানিকে একাধিকবার আইনি নোটিশও পাঠিয়েছিলেন। ফলে টাওয়ার উধাও হওয়ার পেছনে কোনো ভেতরের রহস্য বা ক্ষোভ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন
মাঝরাস্তায় বা ফাঁকা মাঠ থেকে আস্ত টাওয়ার চুরির ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চরম অস্বস্তিতে পুলিশ প্রশাসন। কোম্পানির পক্ষ থেকে ডুমরাওঁ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তের বিষয়ে বক্সারের পুলিশ সুপার (SP) শুভম আর্য জানিয়েছেন:

“একটি মোবাইল টাওয়ার সরিয়ে ফেলা বা চুরির বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জমির মালিক হরেনাথ যাদবসহ আশেপাশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্ত শেষেই পরিষ্কার হবে যে এটি সত্যিই কোনো চোর চক্রের কাজ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে।”