প্রেসিডেন্টের জন্মদিনের আগে বড় বিতর্ক! ঘাসের ওপর ‘৮৬৪৭’ লিখে কার ইঙ্গিতে উত্তাল ওয়াশিংটন?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত ন্যাশনাল মলের ঘাসের ওপর বড় করে লেখা ‘৮৬৪৭’ সংখ্যাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল রহস্য ও বিতর্ক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিন এবং ১৪ই জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউএফসি (UFC) ম্যাচের ঠিক আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কী এই ‘৮৬৪৭’-এর অর্থ?
মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ৮৬৪৭ সংখ্যাটিকে ট্রাম্প-বিরোধী একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হয়। রেস্তোরাঁ শিল্পে ‘৮৬’ (86) কথাটি কোনো অর্ডার বা গ্রাহককে বাতিল করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, ‘৪৭’ (47) সংখ্যাটি ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি হিসেবে সম্ভাব্য ৪৭তম মেয়াদের প্রতীক। তাই সব মিলিয়ে এই সংখ্যাটি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে একটি প্রচ্ছন্ন হুমকি কিংবা ট্রাম্প-বিরোধী বিক্ষোভের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন অনেকে।
তদন্তে নেমেছে নিরাপত্তা বাহিনী:
ওয়াশিংটন মনুমেন্টের চূড়ায় থাকা লাইভ ক্যামেরায় প্রথম এই সংখ্যাটি ধরা পড়ে। ঘাসের একটি বড় অংশ শুকিয়ে বা বিশেষ প্রক্রিয়ায় হলুদ করে এই সংখ্যাটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সময়কাল: ৫ই জুন তোলা ছবিতে এই চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ গত কয়েক দিনেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনাস্থল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ স্মারকস্তম্ভের ঠিক পূর্ব দিকে এই সংখ্যাটি দৃশ্যমান।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা: প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে জরুরি কিছু যানবাহন এলাকাটি ঘিরে ফেলেছিল এবং একই সময় সেনাবাহিনীর গোল্ডেন নাইটস প্যারাশুট দল সেখানে অবতরণ করে।
বর্তমানে ইউএস পার্ক পুলিশ তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে। সিক্রেট সার্ভিস এবং এফবিআই-এর সাথে সমন্বয় করে তারা ঘাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পার্ক পুলিশ জানিয়েছে, ঘাসের রঙ পরিবর্তনের কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হুমকি?
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস এঙ্গেল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা বা নেতার বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানো অপরাধ এবং এর নিন্দা করা উচিত। ঘটনাটি নিয়ে স্বরাষ্ট্র দপ্তরও অত্যন্ত তৎপর। প্রসঙ্গত, এপ্রিলে এফবিআই-এর প্রাক্তন পরিচালক জেমস কোমি ইনস্টাগ্রামে শামুক দিয়ে তৈরি ‘৮৬৪৭’ সংখ্যাটি পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন, যা নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগ পদক্ষেপও নিয়েছিল।
প্রেসিডেন্টের জন্মদিন এবং বড় ক্রীড়া অনুষ্ঠানের ঠিক মুখে এই ঘটনা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে একটি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।