‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ সার্ভারের দুনিয়ায় বিপ্লব: জোহোর নতুন প্রজেক্ট ‘নাথু লা’ কী?

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় ভারত যে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, তার বড় প্রমাণ মিলল জোহো (Zoho)-এর হাত ধরে। সম্প্রতি চেন্নাই-ভিত্তিক এই বহুজাতিক কোম্পানি বাজারে এনেছে তাদের নিজস্ব ডিজাইনের সার্ভার— ‘নাথু লা’ (Nathu La)। ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করেছে খোদ পিএমও ইন্ডিয়া।

কী এই ‘নাথু লা’ সার্ভার?
ইন্টেলের সহযোগিতায় তৈরি এই সার্ভারে ব্যবহৃত হয়েছে শক্তিশালী ‘ইন্টেল জিওন ৬’ (Intel Xeon 6) প্রসেসর। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এই সার্ভার ব্যবহারের ফলে সাধারণ সার্ভারের তুলনায় ১২ থেকে ১৮ শতাংশ কম বিদ্যুৎ খরচ হবে এবং সামগ্রিক পরিচালনা খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে। এআই মডেলে ডেটা প্রসেসিংয়ের সময় যে খরচ হয় (ইনফারেন্স কস্ট), তাও এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

জোহোর এই উদ্যোগ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে এআই এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের চাহিদা তুঙ্গে। এতদিন এই প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর জন্য ভারত মূলত বিদেশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। জোহোর এই পদক্ষেপ সেই আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত মাইলফলক। জোহো বিশ্বের সেই হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির তালিকায় নাম লেখাল, যারা নিজস্ব সার্ভার হার্ডওয়্যার ডিজাইন করে এবং যার মেধাস্বত্ব বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি সম্পূর্ণরূপে ভারতীয়।

পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল:
‘নাথু লা’ কোনো রাতারাতি উদ্ভাবন নয়, এর পেছনে রয়েছে পাঁচ বছরের দীর্ঘ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)। ২০২০ সালে নাগপুরে জোহোর একটি ছোট দল এই সার্ভার মাদারবোর্ড ও চ্যাসিস প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু করে। মজার বিষয় হলো, এই টিমে জোহোর নিজস্ব ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি ‘স্টুডেন্ট এনগেজমেন্ট ফর ট্রান্সফরমেটিভ আপস্কিলিং’ উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্ত হওয়া তরুণ মেধাবীরাও কাজ করেছেন। মধ্য ভারতের বিভিন্ন কলেজ থেকে আসা ৩০০-র বেশি শিক্ষার্থীকে এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে জোহো, যাদের অনেকেই এখন কোম্পানির হার্ডওয়্যার টিমের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:
ভার্চুয়ালাইজেশন, হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং, এআই ইনফারেন্স এবং স্টোরেজ অ্যাপ্লিকেশনের পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে এটি ডিজাইন করা হয়েছে। সার্ভারের প্রতিটি উপাদান, যেমন— ডিসি-এসসিএম এবং নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড (NIC), জোহোর নিজস্ব হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টিম ডিজাইন করেছে এবং ভারতের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস (EMS) সংস্থাগুলির সহায়তায় তা একত্রিত করা হয়েছে।

ভারতের আত্মনির্ভর প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো গড়ার পথে জোহোর এই ‘নাথু লা’ আগামী দিনে আইটি সেক্টরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।