চার্জিংয়ের অপেক্ষা শেষ! ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডেই ফুল চার্জ, ভারতের ইভি বাজারে বিপ্লব আনছে ব্লিঙ্ক মোবিলিটি

বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের অন্যতম বড় ভয়ের কারণ হলো দীর্ঘ চার্জিং সময়। তবে গুরুগ্রাম-ভিত্তিক ইভি স্টার্টআপ ‘ব্লিঙ্ক মোবিলিটি’ (Blink Mobility) সেই দুশ্চিন্তা দূর করতে নিয়ে এসেছে এক যুগান্তকারী সমাধান। তাদের উদ্ভাবনী ‘ব্যাটারি সোয়াপিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের মধ্যেই চার্জহীন গাড়ি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
কিভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?
সাধারণ চার্জিং স্টেশনে একটি গাড়িকে চার্জ দিতে ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু ব্লিঙ্ক মোবিলিটির পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও স্বয়ংক্রিয়:
স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া: গাড়িটিকে ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশনের একটি নির্দিষ্ট র্যাম্পে পার্ক করতে হয়।
রোবোটিক সিস্টেম: চালক গাড়ির ড্যাশবোর্ড থেকে ‘সোয়াপ মোড’ সক্রিয় করলে, রোবোটিক সিস্টেম গাড়ি থেকে খালি ব্যাটারিটি সরিয়ে একটি সম্পূর্ণ চার্জ করা ব্যাটারি বসিয়ে দেয়।
নিরাপত্তা পরীক্ষা: ব্যাটারি লাগানোর পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশ কিছু নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করে, এরপর গাড়িটি আবার রাস্তায় নামার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়।
কোম্পানির দাবি, একবার ব্যাটারি বদল করলে গাড়িটি ২৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। আপাতত কোম্পানিটি এই গাড়িটিকে ‘কার ০০১’ (Car 001) নামে অভিহিত করছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে বৈদ্যুতিক দুই-চাকার যানবাহনে ব্যাটারি সোয়াপিং প্রযুক্তি কিছুটা জনপ্রিয় হলেও, যাত্রীবাহী গাড়িতে এর ব্যবহার ভারতে এখনো নতুন। এই প্রযুক্তি সফল হলে দূরপাল্লার ভ্রমণে চার্জিং স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকার বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না। চীনে ইতিমধ্যেই ১৬,০০০-এর বেশি ব্যাটারি সোয়াপিং স্টেশন রয়েছে, যা তাদের ইভি বিপ্লবের অন্যতম চাবিকাঠি। সেই মডেলকেই এবার ভারতে বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছে ব্লিঙ্ক মোবিলিটি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গাড়িটি একটি বিশেষ ‘স্কেটবোর্ড প্ল্যাটফর্ম’-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ইভি-র জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা। যদিও ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বা গাড়ির চূড়ান্ত দাম সম্পর্কে সংস্থাটি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে সাশ্রয়ী মূল্যে ২৫০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং দ্রুত চার্জিং সুবিধা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে ‘কার ০০১’ ভারতীয় ইভি বাজারে গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে গুরুগ্রামে একটি স্টেশন চালু হলেও, দেশজুড়ে নেটওয়ার্ক বিস্তারের ওপরই প্রযুক্তির চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে। ভারতের মতো জনবহুল দেশে চার্জিং পরিকাঠামোর বিকল্প হিসেবে ব্যাটারি সোয়াপিং মডেলটি ইভি গ্রহণের হারকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।