১২৮ কোটি টাকার জালিয়াতি! আত্মীয়দের লোভের বলি সরকারি প্রকল্প, কঠোর ব্যবস্থা নিলেন ডিকে শিবকুমার

কর্ণাটক সরকারের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ‘গৃহ লক্ষ্মী’ প্রকল্পে সামনে এল চাঞ্চল্যকর জালিয়াতি। সরকারি নজরদারির ফাঁক গলে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে প্রায় ১,৪৮,০০০ মৃত মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত ২,০০০ টাকার কিস্তি জমা হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে করদাতাদের প্রায় ১২৮ কোটি টাকার সরকারি তহবিল বেহাত হয়েছে বলে অভিযোগ।
কীভাবে ফাঁস হলো এই জালিয়াতি?
প্রকল্পটির কারিগরি নিরীক্ষা (Technical Audit) করতে গিয়ে রাজ্য গ্যারান্টি স্কিম বাস্তবায়ন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান দীনেশ গুলিগৌড়া এই অনিয়মটি প্রথম শনাক্ত করেন। তদন্তে দেখা যায়, মহিলারা মারা যাওয়ার পরেও তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা জমা পড়ছে। শুধু তাই নয়, মৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়রা এটিএম ও ইউপিআই-এর মাধ্যমে সেই টাকা নির্লজ্জভাবে তুলে নিচ্ছিলেন।
প্রযুক্তিগত গাফিলতি ও কারচুপির নমুনা
এই জালিয়াতির পেছনে মূলত দুটি বড় প্রযুক্তিগত ত্রুটি দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে:
ডেটা অসামঞ্জস্য: প্রকল্পের আওতায় থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারী এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মধ্যে কোনো মিল ছিল না।
সিস্টেমের অপব্যবহার: একই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে একাধিক মোবাইল নম্বর যুক্ত ছিল, যা ব্যবহার করে অসাধু চক্র প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছিল।
সরকারের কঠোর পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন। এই বিপুল জালিয়াতি ঠেকাতে সরকার বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
নতুন তালিকা তৈরি: বর্তমান সুবিধাভোগীদের তালিকা স্থগিত রেখে পুনরায় যোগ্য ব্যক্তিদের নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে।
পোর্টাল লিঙ্কেজ: ই-বার্থ (E-Birth) ও ডেথ সার্টিফিকেটের পোর্টাল সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত করা হবে, যাতে কারো মৃত্যু হলে সাথে সাথে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারি সুবিধা ব্লক হয়ে যায়।
জীবন সনদ বাধ্যতামূলক: এখন থেকে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে প্রতি বছর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ‘জীবিত থাকার শংসাপত্র’ (Life Certificate) জমা দিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি অর্থের প্রতিটি পয়সার হিসাব রাখা হবে এবং অযোগ্য বা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর গৃহ লক্ষ্মী প্রকল্পের নিয়মকানুন যে আরও কড়া হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।