মেসিকাণ্ডে স্বস্তি অরূপ বিশ্বাসের! শর্তসাপেক্ষে রক্ষাকবচ দিল হাইকোর্ট, তবে কড়া ভর্ৎসনার মুখে প্রাক্তন মন্ত্রী

বিশ্বজয়ী ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, সেই ‘মেসিকাণ্ড’ (Messi Scam) মামলায় কিছুটা স্বস্তি পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁকে আগামী ১৭ অগস্ট পর্যন্ত রক্ষাকবচ প্রদান করেছেন। তবে আইনি সুরক্ষা পেলেও, অরূপ বিশ্বাসের আচরণ নিয়ে আদালত অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
আদালতের ভর্ৎসনা ও পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন সংবাদপত্রের ছবি দেখিয়ে বিচারপতি অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “মেসির গায়ে যিনি লেগে রয়েছেন, তিনি আপনার মক্কেল? আপনার মক্কেল কি মেসির ছোটবেলার বন্ধু? একজন মন্ত্রীর এমন আচরণ হতে পারে! ওইদিন কলকাতার মানুষের মাথা হেঁট হয়েছে। মেসির নিরাপত্তার জন্য তাঁর এই আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক ছিল।” অন্য জায়গায় অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে হলেও কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খলা হলো, তা নিয়ে বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
হাইকোর্টের দেওয়া শর্তাবলি
অরূপ বিশ্বাসকে সুরক্ষা দিলেও আদালত বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে:
তদন্তে সহযোগিতা: পুলিশ যখনই ডাকবে, তাঁকে হাজিরা দিতে হবে এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। হাজিরা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিশ দিতে হবে।
পাসপোর্ট জমা: এক সপ্তাহের মধ্যে অরূপ বিশ্বাসকে তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে।
ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্য ছাড়তে পারবেন না।
গ্রেফতারি নয়: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
তদন্তের নির্দেশ
বিধাননগর পুলিশ কমিশনারকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থাকে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ৪ অগস্ট।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এর ঘটনা নিয়ে ৩০ মে ২০২৬ তারিখে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল ‘ক্লোজ প্রক্সিমিটি কার্ড’ নিয়ে মেসির কাছে ছিলেন, যা অপরাধ নয়। অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র সওয়াল করেন, প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং তদন্তের প্রয়োজনে একাধিকবার তলব করলেও তিনি স্বাস্থ্যজনিত কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। অভিযোগকারী শতদ্রু দত্তের আইনজীবীর দাবি, মেসিকাণ্ডে মূল উদ্যোক্তাদের থেকে অন্যায় সুবিধা নেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, রক্ষাকবচ পেলেও অরূপ বিশ্বাসের ওপর আদালতের এই নজরদারি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশে মেসিকাণ্ডের জল আরও কোন দিকে গড়ায়, তা এখন দেখার বিষয়।