সরকারি চাকরির পথে বড় বাধা দূর! মধ্যপ্রদেশে বাতিল ‘দুই সন্তানের নিয়ম’, স্বস্তিতে চাকরিপ্রার্থীরা

মধ্যপ্রদেশের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর! রাজ্যে সরকারি চাকরিতে যোগদানের ক্ষেত্রে এতদিন যে ‘দুই সন্তানের নিয়ম’ (Two-child policy) বলবৎ ছিল, তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল মোহন যাদব প্রশাসন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী এই মর্মে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে, এখন থেকে দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও প্রার্থীরা সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কী ছিল পুরনো নিয়ম?
২০০১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার এই কঠোর নীতি কার্যকর করেছিল। ২৬শে জানুয়ারি, ২০০১ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়। সেই আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে তিনি সরকারি চাকরির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হতেন। শুধু তাই নয়, কেবল নতুন চাকরিপ্রার্থীই নন, তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী কর্মরত সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই বিধি নিষেধ কার্যকর ছিল। নিয়ম লঙ্ঘন করে তৃতীয় সন্তান নিলে তা ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ হিসেবে গণ্য করা হতো এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ছিল।
কেন এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত?
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই নিয়ম বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকারের মতে, এই পুরনো নিয়মটি বর্তমান সময়ের নিরিখে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের পারিবারিক জীবনের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সরকারি কর্মীদের দাবি ও বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী পুরনো এই বিধিনিষেধ সম্পূর্ণরূপে বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর মধ্যপ্রদেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে অতি দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। সরকারি পোর্টাল থেকে এই সংক্রান্ত পুরনো তথ্য ও বিধিমালা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে, সংশোধিত আইনের নতুন রূপটি দ্রুত প্রকাশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রদেশের সরকারি চাকরির বাজারে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ ২৫ বছর পর এই নিয়মের অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার চাকরিপ্রার্থী ও সরকারি কর্মীদের বড় স্বস্তি দিল বলেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা চলছে।