প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ! গ্রেফতারির দাবিতে সরব বিজেপি

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের তাবড় নেতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া অব্যাহত। এবার রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে কুরুচিকর মন্তব্য ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের হলো। বুধবার বিজেপি কর্মী সঞ্জয় পয়রা এই অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযোগের বিস্তারিত
অভিযোগকারী সঞ্জয় পয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর সন্দেশখালিতে তৃণমূলের একটি জনসভায় ফিরহাদ হাকিম মহিলাদের সম্পর্কে অত্যন্ত অসম্মানজনক ও কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও কটূক্তি ও ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা বলেছিলেন। অভিযোগকারীর দাবি, সেই দিনের ঘটনার একটি ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে।

সঞ্জয় পয়রা আরও বলেন, “এর আগে যখন এই একই অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম, তখন পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তবে এখন রাজ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, তাই আজ অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।”

ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগ
সন্দেশখালির ঘটনা ছাড়াও, ২০২৪ সালের ৩ জুলাই একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন ওই বিজেপি কর্মী। তাঁর অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিম যেভাবে ধর্মীয় বিভাজনের কথা বলেছিলেন, তা জনমানসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা ছিল। এই সমস্ত কারণে তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীর অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক চাপ ও পুলিশের ভূমিকা
রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগকারীর কথায়, “আগে মমতা সরকারের পুলিশ আমাদের অভিযোগ নিতে চাইত না, কিন্তু বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে তা তৎক্ষণাৎ গ্রহণ করা হতো। এখন পরিস্থিতি আলাদা, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে।”

উল্লেখ্য, এর আগে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একের পর এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এভাবে আইনি অভিযোগ সামনে আসায় এবং পুলিশের সক্রিয়তায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানা তদন্তের মাধ্যমে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।