মোজতবা খামেনির অবস্থান জানি! ইরানের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা, তুঙ্গে জল্পনা

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ নিষ্পত্তির পথে আরও কড়া অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬০ দিনের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই রবিবার এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের জব্দকৃত কোনো সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে না এবং নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকবে।

শান্তি নয়, চুক্তির শর্তে অটল ট্রাম্প: ‘মিট দ্য প্রেস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার ও ধ্বংস করা আমেরিকার মূল লক্ষ্য। তিনি তেহরানকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ভালো আচরণ করলে তবেই আলোচনার টেবিলে বসবে আমেরিকা।” চুক্তির আগে সম্পদ হস্তান্তরের যে দাবি ইরান জানিয়েছিল, তা এক কথায় প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর কথায়, “সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি পরে আসবে।”

মোজতবা খামেনি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান সম্পর্কে জানেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রহস্য রেখে ট্রাম্প বলেন, “আমি বলতে চাই না আমি জানি তিনি কোথায় আছেন, তবে এমন সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি মোজতবাকে তাঁর বাবার তুলনায় ‘বেশি বিচক্ষণ’ বলে উল্লেখ করেন। যুদ্ধের পর থেকে মোজতবাকে জনসমক্ষে দেখা না গেলেও, ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি প্রয়োজনে সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত।

সামরিক আক্রমণের হুঁশিয়ারি: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্প দুটি পথ খোলা রেখেছেন:

  • চুক্তি হলে: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করবে।

  • চুক্তি না হলে: সামরিকভাবে ইরানকে ‘কঠোরভাবে ধ্বংস’ করা হবে এবং এরপর মার্কিন বাহিনী গিয়ে পারমাণবিক সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করবে। ট্রাম্পের দাবি, স্পেস ফোর্সের স্যাটেলাইটের নজরদারিতে রয়েছে ইরানের প্রতিটি পারমাণবিক স্থাপনা।

৫০ হাজার সেনা ও তেলের দাম: মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৫০,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই থাকবে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে পেট্রোল ও সারের দাম বাড়লেও, ট্রাম্পের দাবি—যুদ্ধ শেষে মানুষ অভাবনীয় অর্থনৈতিক স্বস্তি দেখবে এবং জ্বালানির দাম হু হু করে কমে যাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তা ইরানকে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান সামরিক ধ্বংসযজ্ঞের পথে হাঁটবে, নাকি আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে সায় দেবে।